শিক্ষামন্ত্রী অন্তত নিজের চেয়ারের মূল্য বুঝুন

হেমন্ত রায়

দীর্ঘ এক ফেসবুক পোস্ট লিখেছেন শিক্ষামন্ত্রী। মোদ্দা কথা, যাঁরা বিকাশ ভবনের সামনে বিষ খেলেন, তাঁরা বিজেপির ক্যাডার। আকারে ইঙ্গিতে নয়, একেবারে সরাসরি বিজেপির ক্যাডার বলেই উল্লেখ করেছেন। বুঝিয়ে দিলেন, শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে তিনিও আগেরজনের ধারাবাহিকতা মেনে চলতেই বদ্ধপরিকর।

নতুন মন্ত্রীসভায় শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে ব্রাত্য বসুর নাম দেখে কিছুটা হলেও আশ্বস্ত হয়েছিলাম। মনে হয়েছিল, ইনি অন্তত সংবেদনশীল। শিক্ষা জগতের মানুষ। নিজেও নানা বিষয় নিয়ে লেখাপড়া করেন। শিক্ষাদপ্তরের সংস্কৃতি কিছুটা হলেও উন্নত হবে। কিন্তু তিনিও পূর্বসূরির পথেই হাঁটতে চাইছেন।

bratya basu

পাঁচজন শিক্ষিকা বিকাশ ভবনের সামনে বিষ খেলেন, এরপর একটু মানবিক হওয়া যেত না!‌ তাঁদের দাবি যদি অনাহ্যও হয়, তবুও তো রুচি বজায় রেখে প্রতিক্রিয়া দেওয়া যেত। তা না করে সরাসরি বিজেপির ক্যাডার বলে দাগিয়ে দিলেন!‌ এসএসকে, এমএসকে শিক্ষকরা নানারকম দাবি নিয়ে আন্দোলন করছেন। কোনওটা হয়ত তেমন যুক্তিযুক্ত নয়। আবার কোনও ক্ষেত্রে দাবিটা যুক্তিসঙ্গত হলেও সরকারের সামর্থ্য নেই। সেক্ষেত্রে খোলামেলা আলোচনা তো হতে পারত। সরকারের অবস্থানটা অন্তত বুঝিয়ে বলা যেত। কিন্তু শিক্ষামন্ত্রী তার ধারপাশ দিয়েও গেলেন না।

উল্টে ফল কী হল?‌ যাঁরা আন্দোলন করছিলেন, তাঁদের নামে বদলির অর্ডার বেরিয়ে গেল। মেদিনীপুরের শিক্ষিকাকে দেওয়া হল জলপাইগুড়ির মালবাজারে। দক্ষিণবঙ্গের আরও একজনকে বদলি করা হল জলপাইগুড়ির ধূপগুড়িতে। এই চাকরির যা যা শর্ত ছিল, তাতে বদলির কথা ছিল?‌ যে চাকরিতে এতদিন হাজার পাঁচেক মাইনে ছিল, সেই চাকরিতে মেদিনীপুর থেকে মালবাজারে বদলি করা যায়?‌ যাঁরা এই সিদ্ধান্ত নিলেন, যাঁরা সই করলেন, তাঁরা কতটা অমানবিক?‌ একজন খুনি বা একজন ধর্ষণকারীকে কি এইসব অফিসারদের তুলনায় একটু বেশি নিরীহ মনে হয় না?‌

এই বদলির বিরুদ্ধে এক শিক্ষক কোর্টে যেতে চাইলেন। কী আশ্চর্য, মাঝপথে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হল!‌ নিশ্চয় কোনও সাধারণ পুলিশ এই কাজটি করেননি। ওপর তলা থেকে নির্দেশ না এলে এভাবে কোর্টের বাইরে থেকে কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়?‌ কে সেই নির্দেশ দিয়েছিলেন?‌

ধরেই নিলাম, এই আন্দোলনকারীরা বিজেপির ক্যাডার। তার মানে, বিজেপির ক্যাডার দেখে তাঁদের উত্তরবঙ্গে বদলি করা হয়েছিল?‌ শিক্ষামন্ত্রী কার্যত সেটাই স্বীকার করে নিলেন। তারপরেও গলা ফাটিয়ে ফেসবুকে ভাষণ দিলেন!‌ নাট্যকার বা অভিনেতা হিসেবে ব্রাত্য বসুর একটা সম্মানের জায়গা আছে। এইসব বালখিল্য ফেসবুক পোস্ট একজন শিক্ষামন্ত্রীকে মানায়!‌ নিজের চেয়ারের মূল্য কবে আর বুঝবেন!‌

Previous post এপার বাংলার লেখকের সাক্ষাৎকার খুঁজতে হবে ওপার বাংলার চ্যানেলে !
Next post ধারাবাহিক লেখা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *