আবার আজগুবি এক দাবি করে বসলেন নরেন চ্যাটার্জি। দেশের স্বাধীনতা দিবস নাকি বদল করতে হবে। নরেনবাবুর নিদান অনুযায়ী, স্বাধীনতা দিবস হবে ২১ অক্টোবর। নেতাজির নামে যে যা খুশি ফাজলামি করে যাবেন? এই অর্বাচীন লোক কিনা নেতাজির তৈরি দলের রাজ্য সম্পাদক! লিখেছেন রক্তিম মিত্র।
নেতাজির টুপি পরে চমক দিলেন মোদি। আরও বড় চমক দিলেন ফরওয়ার্ড ব্লকের রাজ্য সম্পাদক নরেন চ্যাটার্জি। দাবি তুললেন ২১ অক্টোবর দিনটিকে স্বাধীনতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হোক।
যা খুশি একটা দাবি করে দিলেই হল। সেটা কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, সেটা ভাবার কোনও দায় নেই। কতটা হাস্যকর হবে, সেটা বোঝার মতো বুদ্ধিও নেই। হ্যাঁ, এইরকম উদ্ভট দাবি করলে কাগজে দু–চার লাইন খবর হয়ত বেরোয়। তার বেশি কিছু হয় না। মাঝখান থেকে দলটা হাস্যকর হয়।
নেতাজিকে প্রাপ্য মর্যাদা দেওয়া উচিত, এই নিয়ে কোনও দ্বিমত নেই। কিন্তু যাঁরা নেতাজির মৃত্যু নিয়েই বেশি চিন্তিত, বাস্ত অভিজ্ঞতায় দেখেছি, তাঁরা নেতাজির জীবন সম্পর্কে বড় বেশি অজ্ঞ। নেতাজিকে ভালবাসা মানেই যেন গান্ধীকে বা নেহরুকে ছোট করতেই হবে। এই প্রবণতা বহুদিনের। এই অর্বাচীনরা জানেও না, গান্ধীকে জাতির জনক আখ্যা দিয়েছিলেন স্বয়ং নেতাজি। আজাদ হিন্দ ফৌজে চারটি ব্রিগেডের একটি গান্ধী ব্রিগেদ, একটি নেহরু ব্রিগেড। অথচ, নেতাজির কথা উঠলেই একদল বলে ওঠেন, নেতাজির সঙ্গে পলিটিক্স করা হয়েছে। তাকে খুন করা হয়েছে। নেহরু আর গান্ধী প্ল্যান করে নেতাজিকে মার্ডার করেছে।
কেউ কেউ কী অবলীলায় এই সব কথা বলে যায়। কোনও সন্দেহ নেই, এখন স্বয়ং সরকার গান্ধী আর নেহরুকে ছোট করে দেখাতে ব্যস্ত। কারও কোনও অবদান নেই, যেন দেশটাকে স্বাধীন করেছেন নরেন্দ্র মোদি। স্বর্গ থেকে যেন এক যুগাবতার নেমে এলেন।
মোদির কথা থাক। আমাদের আলোচনা ফরওয়ার্ড ব্লকের এই বাচাল রাজ্য সম্পাদকটিকে ঘিরে। অশোক ঘোষের জায়গায় কাকে যে আনা হল! এই লোকটার রাজ্য সম্পাদক তো দূরের কথা, সামান্য পঞ্চায়েত মেম্বার হওয়ারও যোগ্যতা নেই। না আছে লেখাপড়া, না আছে মিনিমাম গ্রহণযোগ্যতা। না বলতে পারেন, না বাস্তব অবস্থা বোঝেন। না কর্মীদের সঙ্গে মিশতে পারেন, না লড়াই করতে পারেন। সব জেলায় ঝগড়া লাগানোই যেন তাঁর একমাত্র কাজ। তাঁর ঘনিষ্ঠ একের পর এক নেতা তৃণমূলে চলে গেলেন। অবাক হব না, যদি তিনি নিজেও কোনওদিন চলে যান। চলেই যেতেন, নেহাত দরাদরিতে পোষাচ্ছে না। নেহাত মমতা পাত্তা দিচ্ছেন না। নইলে, তিনিও কবে ‘উন্নয়নে সামিল’ হয়ে যেতেন।
নেতাজির জন্মদিনকে দেসপ্রেম দিবস করার দাবি অনেকদিনের। সেই দাবি নিয়ে আন্দোলন হতে পারে। ডেপুটেশন হতে পারে। তাই বলে স্বাধীনতা দিবস বদলে ফেলতে হবে! এরকম আজগুবি দাবি করার আগে একবারও ভাবলেন না এই দাবিটা কতটা হাস্যকর হতে পারে! তাঁর নিজের দলের লোকেরাই হাসবেন এমন আগজুবি দাবি শুনে। এরকম আলটপকা মন্তব্য কোনও রাজ্য সম্পাদক করতে পারেন? ইদানীং মাঝে মাঝেই বলতে শুরু করেছেন, সাম্প্রদায়িক শক্তিকে রুখতে হবে। যেন নেতাজি আর লোক পাননি, তাঁকেই দায়িত্ব দিয়ে গেছেন। এই অছিলায় দুদিন পর বলবেন, বামফ্রন্ট ব্যর্থ। তার দুদিন পর বলবেন, একমাত্র মমতা ব্যানার্জি বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করছেন। তাই তৃণমূলে যোগ দিলাম। মোটামুটি অনেকেই তো এই চিত্রনাট্য ধরেই এগোন। তাঁর মুখে এই বাণী শুনলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। সেদিক থেকে একটা রেকর্ড করে ফেলবেন নরেনবাবু। এর আগে বিভিন্ন দল থেকে অনেক নেতাই গেছেন তৃণমূলের কাছে বা বিজেপির কাছে। সেই তালিকায় মন্ত্রী যেমন আছেন, সাংসদও আছেন। কিন্তু এই প্রথম বোধ হয় কোনও রাজ্য সম্পাদক সরাসরি উন্নয়নে সামিল হতে পারেন।
জানি, এখন তিনি ফুৎকারে উড়িয়ে দেবেন। বলবেন, চক্রান্ত। সামান্য একটা বিধানসভার সিট দিয়েই তাঁকে দলে টানা যায়। এখন হয়ত বিশ্বাস হবে না। দু বছর পর মিলিয়ে নেবেন।

