শ্রীপর্ণা গাঙ্গুলি
মহালয়া বলতেই ভেসে ওঠে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রর সেই উদাত্ত কণ্ঠস্বর। শিউলি ফোটা শরতের ভোরে বেজে উঠত রেডিওটা। পুরনো সেই রেডিওটা আজ নিছক স্মৃতি। কিন্তু এফ এমের সৌজন্যে এখনও বেশ সজীব মহালয়া।
স্বাধীনতার আগে থেকেই চলে আসছে এই মহিষাসুর মর্দিনী। বাণী কুমারের লেখা, পঙ্কজ মল্লিকের সুর, আর বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রর চণ্ডীপাঠ। নানা সময়ে গলা মিলিয়েছেন দ্বিজেন মুখোপাধ্যায়, প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায়, শ্যামল মিত্র, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়, সুপ্রীতি ঘোষ, মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়, সুমিত্রা সেন, আরতি মুখোপাধ্যায়রা। বাঙালি এখনও সেই সেই নস্টালজিয়াকে আঁকড়ে আছে। এত বছর পরেও সেই মহালয়া ম্লান হয়ে যায়নি।

কিন্তু একবার ব্যতিক্রম ঘটেছিল। ১৯৭৫ এ আকাশবাণী কর্তৃপক্ষ ঠিক করেছিলেন উত্তম কুমারকে দিয়ে মহালয়া করাবেন। সুর দিলেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। হেমন্ত–উত্তম যুগলবন্দী। কিন্তু যে কোনও কারণেই হোক, সেই মহালয়াকে বাঙালি ঠিকভাবে গ্রহণ করেনি। সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। পরের বছর থেকে আবার ফিরে এসেছিল বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রর কণ্ঠস্বর। সেই বিষয়টিই এবার উঠে আসছে পর্দায়। পরিচালনায় সৌমিক সেন। কেন হঠাৎ উত্তম কুমারকে দিয়ে রেকর্ড করানোর সিদ্ধান্ত, এর নেপথ্যে কী কারণ ছিল, মহানায়কই বা রাজি হয়েছিলেন কেন? কীভাবে প্রস্তুতি নিতেন, কেন মানুষের মনে ধরল না, এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা থাকবে নতুন ছবিতে। উত্তম কুমারের ভূমিকায় দেখা যাবে যিশু সেনগুপ্তকে। আর বীরেন্দ্রকৃষ্ণের ভূমিকায় সুভাশিস মুখোপাধ্যায়। একটি ভূমিকায় দেখা যাবে প্রসেনজিৎকেও। দ্রুত ছবির শুটিং শুরু হয়ে যাবে। ছবির নামও ঠিক হয়ে আছে— মহালয়া। মহালয়ার আগেই হয়ত পর্দায় এসে যাবে নতুন ছবি।
