সমীর পট্টনায়েক
আমাদের সেই ডার্বি আমাদের ফিরিয়ে দিন। আমরা কে মোহনবাগান, কে ইস্টবেঙ্গল, সেটা বড় কথা নয়। কিন্তু এই লড়াইটা আমরা দিব্যি উপভোগ করতাম। নিজের টিম জিতলে আনন্দ পেতাম, হারলে দুঃখ পেতাম। কেউ দাঁড়ি কাটত না, কেউ একদিন হয়ত খেত না। এমন নানা কুসংস্কার, নানা পাগলামি। আমরা কিন্তু বেশ আনন্দই পেতাম।
কিন্তু যেদিকে গড়াচ্ছে, কতদিন এই আবেগটা থাকবে, বুঝতে পারছি না। এখানেও সবকিছউ কর্পোরেট করে দেওয়ার চেষ্টা। দুই ক্লাব থেকে টিকিট পাওয়া যেত, আই এফ এ থেকে টিকিট পাওয়া যেত। খেলার দিন সকাল থেকে যুবভারতীতেও পাওয়া যেত। এবার দেখছি উলট পুরান।

ম্যাচের দিন নাকি মাঠ থেকে টিকিট পাওয়া যাবে না। এ কী রকম বাঁদরামি বলুন তো? অনলাইনে টিকিট বিক্রির ঠিকে নিয়েছে বুক মাই শো। আচ্ছা, কে এদের এমন এঁচোড় পাকামির ঠিকেদারি দিল? এরা এসে ফিফার নিয়ম দেখাচ্ছে। ভারি আমার পুচ্ছপাকা। এরা কি মোহনবাগান–ইস্টবেঙ্গলকেও আই এস এলের মতো প্রাণহীন বানাতে চাইছে? চিরকাল ম্যাচের দিন এসে টিকিট কাটলাম, এবার যাবে না কেন? কারা এই শর্ত চাপিয়ে দিল? যে লোকটি বর্ধমান বা মেদিনীপুর থেকে খেলা দেখতে আসবে, সে কী করবে? সে কি দু–তিন দিন আগে এসে টিকিট কেটে নিয়ে যাবে? যে লোকটি রাতের ট্রেন ধরে উত্তরবঙ্গ থেকে আসবে, তাকে কি একদিন আগে আসতে হবে?
মনে রাখবেন, এটা আই এস এল নয়। ফ্রি টিকিট বিলিয়ে এখানে লোক টানতে হয় না। ফিল্ম স্টারের গল্প শুনিয়ে হাওয়া তুলতে হয়। এখানে ওসব কিছুই লাগে না। শুধু মোহনবাগান–ইস্টবেঙ্গল নাম দুটোই যথেষ্ট। দরকার নেই পেশাদারিত্বের। দরকার নেই কর্পোরেট সিস্টেমের। আমরা যেমন ছিলাম, দিব্যি ছিলাম। এই বুক মাই শো নামক আপদটিকে এবার বিদেয় করা হোক। খেলার দিন মাঠে টিকিট ফিরিয়ে আনা হোক।।।
