সবুজ সরকার
দেখতে দেখতে ডিসেম্বর এসেই গেল। বইমেলা আর দেড় মাস বাকি। এর মধ্যেই নানা জায়গায় মেলা শুরু হয়ে গেছে। করুণাময়ীতে তো কালীপুজোর পর থেকেই নানা মেলার আয়োজন। কয়েকদিন আগে একটি মেলায় যাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়েছিল।
কিন্তু এখানে বইমেলা হবে? এখনও মন থেকে মানতে পারছি না। অবশ্য, আমার মতো লোকের মানতে পারা না পারায় কীই বা আসে যায়। সরকার চাইছে, অতএব ওখানেই হবে। গিল্ড কি সত্যিই সেখানে মেলা চাইছে? নাকি সরকার চাইছে বলে হ্যাঁ–তে ‘হ্যাঁ’ মিলিয়েছে? কে জানে!
অবলা মেলা, সবলা মেলা— এসব মেলা করুণাময়ীতে হতেই পারে। কিন্তু করুণাময়ী এখনও বইমেলা আয়োজনের উপযুক্ত হয়ে ওঠেনি। কলকাতার অধিকাংশ এলাকা থেকে করুণাময়ীর যোগাযোগ নেই। বইমেলায় মফস্বল থেকে অনেক মানুষ আসেন। তাঁরা মূলত আসেন হাওড়া ও শিয়ালদা স্টেশন দিয়ে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, হাওড়া বা শিয়ালদা থেকেও করুণাময়ীর বাস নেই বললেই চলে। তাহলে কী করে তাঁরা আসবেন? বইমেলার সময় সরকার হয়ত কিছু স্পেশাল বাস চালাবে। কিন্তু যেখানে কোনও রুটই নেই, সেখানে মাত্র কয়েকটা স্পেশাল বাস ওই ভিড় সামাল দিতে পারবে? করুণাময়ী থেকে নানা জায়গায় যাওয়ার একটা মাধ্যম হল অটো। কিন্তু এখানে সেই তুলনায় অটো নেহাতই কম। অন্তত বইমেলার এই বিশাল জমায়েতের তুলনায় তা কিছুই নয়। অটো ধরার জন্য হয় বিশাল লাইন পড়বে, নয়তো চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা হবে। নিরাপত্তার দায়িত্বে কলকাতা পুলিস নাকি বিধান নগর পুলিস? নাকি যৌথ ব্যবস্থা? সেখানেও সমন্বয়ের অভাব ঘটতে বাধ্য। ওই ভীড় করুণাময়ীর মতো নেহাতই ছোট্ট একটি জায়গা কীভাবে সামাল দেবে, ভাবতে গেলে এখন থেকেই শিউরে উঠছি। কিন্তু আয়োজনের আগে গিল্ড বা সরকার এসব ভেবেছে বলে মনে হয় না।
(এটি ওপেন ফোরামের লেখা। মতামতের দায় লেখকের। বইমেলা আয়োজনের জন্য করুণাময়ী কি উপযুক্ত? এই ব্যাপারে আপনিও আপনার মতামত জানাতে পারেন। লেখা পাঠানোর ঠিকানা: bengaltimes.in@gmail.com)