উত্তাল পাহাড়ে শান্তি এনেছিলেন জ্যোতি বসুই

৮ জুলাই। জ্যোতি বসুর জন্মদিন। এই সময়ে পাহাড় অশান্ত। আশির দশকেও পাহাড় উত্তাল হয়ে উঠেছিল গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে। কীভাবে সামাল দিয়েছিলেন জ্যোতি বসু?‌ তাঁর জন্মদিনে সেই কথাই উঠে এল বেঙ্গল টাইমসের প্রতিবেদনে।লিখেছেন রক্তিম মিত্র।

গত এক মাসে একটাই আলোচনা, দার্জিলিং। আবার কি পাহাড় অশান্ত হয়ে উঠল?‌ পর্যটকরা কি আর পাহাড়ে যেতে পারবেন না?‌ পাহাড় কি সত্যিই হাসছিল?‌ নাকি ভেতরে অনেক যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছিল?‌ এমন নানা প্রশ্ন। এরই মাঝে বেঙ্গল টাইমসের আশির দশক ফিরে দেখার উদ্যোগ। দুটো মিলিয়ে পুরনো কিছু কথা মনে পড়ে গেল।
আমি তখন অনেকটাই ছোট। রাজনীতি বোঝার মতো বয়স হয়নি। বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর নাম জ্যোতি বসু, দেশের প্রধানমন্ত্রীর নাম রাজীব গান্ধী, জ্ঞান বলতে এইটুকুই। আটের দশকের মাঝামাঝি। তখন একবার দার্জিলিং গিয়েছিলাম। গরমকালেও ঠান্ডা লাগে, শোয়েটার পরতে হয়, ব্যাপারটা বেশ উপভোগ করেছিলাম। মনে আছে ম্যালের কথা।

ghising2

মনে আছে, টয় ট্রেনে চড়ে নেমে এসেছিলাম। পাহাড়ের বুক চিরে আস্তে আস্তে ছুটছে সেই ট্রেন। অনেকে ছুটতে ছুটতেই সেই ট্রেনে উঠে পড়ছে, নেমে যাচ্ছে। কিশোর মনে দারুণ সাড়া ফেলেছিল। ফিরে এসে কত বন্ধুকে বলেছিলাম সেই টয় ট্রেনের কথা।
তার কয়েক মাস পরেই শুনলাম, পাহাড় নাকি উত্তপ্ত। সেখানে নাকি গোর্খাল্যান্ড আন্দোলন শুরু হয়েছে। আলাদা রাজ্য চাই। আমার কিশোর মন সেদিন বলে উঠেছিল, আলাদা রাজ্য হলে কি আর বেড়ানো যাবে না?‌ যদি বেড়ানো যায়, তাহলে আলাদা রাজ্য হলেই বা ক্ষতি কী?‌ কত রাজ্য তো আছে।
অনেকদিন ধরে এই আন্দোলন চলেছি। কখনও গাড়ি পুড়ছে, কখনও কেউ আক্রান্ত হচ্ছে। এমন নানা খবর ভেসে আসতে লাগল। রোজই এর সঙ্গে তার মিটিং হচ্ছে। কাগজে তখন প্রায় রোজ সুবাস ঘিসিংয়ের ছবি। এই লোকটা কী চায়?‌ যদি রাজ্যই চায়, তাহলে এত ঝামেলা করার কী দরকার?‌ এসব কত প্রশ্ন তখন মনের মধ্যে ভিড় করত। কাগজে নানারকম বিবৃতি। কিছু বুঝতাম, অধিকাংশটাই বুঝতাম না।

ghising3অনেকদিন পর, কাগজে দেখলাম, সবাই বেশ হাসিমুখে। জ্যোতি বসু, রাজীব গান্ধী, বুটা সিং, সুবাস ঘিসিং। সবাই মিলে একটা চুক্তি করলেন। গোর্খা হিল কাউন্সিল তৈরি হল। পাহাড় শান্ত হল। নয়ের দশকেও পাহাড় গেছি। আর অশান্তির ছোঁয়া পাইনি। নতুন শতকেও গেছি। দিব্যি ঘুরে এসেছি। সমস্যা হয়নি। ২০০৫ পর্যন্ত পাহাড়ে আর আগুন জ্বলতে দেখিনি। বিমল গুরুংদের দাপট বাড়ার পর আবার অশান্ত হয়েছে। ঘিসিংয়ের আমলে কী দুর্নীতি হয়েছে, কোথায় উন্নয়নের কাজ কেমন হয়েছে, তা জানি না। তবে এটুকু জানি, পাহাড়টা শান্ত ছিল। রাজ্য অকারণে নাক গলাতে যায়নি। সত্তরবার পাহাড়ে যাওয়ার ঢাক পেটাতে হয়নি। তবে সেখানকার মানুষগুলো মোটামুটি শান্তিতেই ছিলেন।
সেই আশির দশক। দীর্ঘ আলোচনার পর শান্তির দিশা পেয়েছিল পাহাড়। ‘‌পাহাড় হাসছে’‌ জ্যোতি বসুকে কখনও এমন ঢাক পেটাতে হয়নি।
(‌বেঙ্গল টাইমসে জুন মাসের বিশেষ ফিচার আশির দশক:‌ফিরে দেখা। নানা আঙ্গিক থেকে ফিরে দেখা হবে আশির দশককে। সেখানে রাজনীতি, খেলা, সাহিত্য, সিনেমা, বেড়ানো, প্রেম, আড্ডা, বিতর্ক–‌এমন নানা বিষয় উঠে আসবে। এই লেখায় উঠে এল তখনকার গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনের কথা। সেই দশকের এমন নানা অনুভূতি উঠে আসতে পারে আপনার লেখাতেও। লেখা পাঠানোর ঠিকানা:‌ bengaltimes.in@gmail.com) ‌

Previous post দলে সৌরভ, বাদ স্নেহাশিস!‌
Next post ঋতুপর্ণকে ‘না’ বলেছিলেন সৌরভ!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *