প্রদীপ সিংহ
আবার আক্রান্ত গণমাধ্যম। একজন বা দুজন নন। অন্তত কুড়িজন সাংবাদিক আহত। পুলিশ না বুঝে লাঠি চালিয়েছে, এমনও নয়। বুঝেসুঝেই চালানো হয়েছে লাঠি। বাদ গেলেন না মহিলা সাংবাদিকরাও।
সিপিএম নবান্ন অভিযানের ডাক দিয়েছে। তাকে আটকাতে পুলিশের তৎপরতা থাকবে, সেটা স্বাভাবিক। কেউ কেউ ঢিল ছুঁড়েছে, এটাও ঘটনা। তাই বলে এমন এলোপাথাড়ি লাঠি চালাতে হবে? বয়স্ক থেকে মহিলা, শিশু থেকে প্রতিবন্ধী–কেউ বাদ গেলেন না! এ কেমন নৃসংশতা! ওপর মহলের নির্দেশ ছাড়া এমনটা হয়েছে? বিশ্বাস করতে রাজি নই।
আমার প্রশ্ন, গণমাধ্যম তো ঢিল ছুঁড়তে যায়নি। তাহলে তাদের এভাবে আক্রান্ত হতে হল কেন? সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে যে সব বাছা বাছা খিস্তি প্রয়োগ করা হল, এটা নির্দেশ ছাড়া হয় না। একজন সাধারণ পুলিশ কর্মীর সাহস হবে পরিচয় জানার পরেও এভাবে সাংবাদিকদের আক্রমণ করার? নবান্ন থেকে অন্তত দু কিলোমিটার দূরে, প্রেস ক্লাবের সামনে ছিলেন সাংবাদিকরা। সেখানে না ছিল কোনও পাথর, না ছিল কোনও প্ররোচনা। সেখানেও অযাচিতভাবে এসে লাঠি চালিয়েছে পুলিশ।

এতকিছুর পরেও প্রেস ক্লাবের দিক থেকে তেমন প্রতিবাদ নেই। নাম কে ওয়াস্তে একটা বিবৃতি। সেখানে লেখা ‘অনভিপ্রেত ও দুর্ভাগ্যজনক’। হায় রে, এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর শুধু অনভিপ্রেত? সেই বিবৃ্তিও কর্তারা স্বতপ্রণোদিত হয়ে লিখেছেন বলে মনে হয় না। আক্রান্ত সাংবাদিকদের ধিক্কারের মুখেই হয়ত বিবৃতিটুকু দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিবৃতির নিচে তো একটা সই থাকবে। সেখানে সচিব, সভাপতি বা কারও সই নেই। ‘অনভিপ্রেত’ বলে একটা নিরামিষ শব্দ ব্যবহার করা হল। তারপরেও সই করার সৎ সাহস নেই! ন্যূনতম সৎসাহসটুকু যখন নেই, তখন প্রেস ক্লাবের ভোটে দাঁড়ান কেন?
একের পর এক গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শাসকদলের লেজুড় হিসেবে নিজেদের তুলে ধরেছে। মানবাধিকার কমিশন বলে যে কিছু একটা আছে, এই রাজ্যের লোক সেটা ভুলেই গেছে। প্রেস ক্লাবও কি সেই তালিকায় নাম লেখাতে চাইছে?
