রজত সেন
একটি ছেলে রোজ ঝুড়ি ঝুড়ি সন্দেশ খেত। সন্দেশের খরচ জোগাতে না পেরে ছেলেটির মা মোল্লা নাসিরুদ্দিনের দ্বারস্থ হল। বলল, মোল্লা যেন তার ছেলেকে কিছু সদুপদেশ দেয়। কিন্তু মোল্লা সাফ বলে দিল, সে নিজেও রোজ ঝুড়ি ঝুড়ি সন্দেশ খায়। নিজে এই অভ্যেস ছাড়তে না পারলে কোনও অধিকার নেই অন্যকে উপদেশ দেওয়ার।
মোদিভাইয়ের প্রতি দিদিভাইয়ের রাগ দেখে মোল্লা নাসিরুদ্দিনের এই গল্পটা মনে এল। মোদিবাবু নাকি রাজ্যের মতামত না নিয়ে সেনা পাঠিয়েছেন। তিনি নাকি রাজ্য দখল করবেন। সেনাবাহিনী একটি অঙ্গরাজ্যকে আদৌ দখল করতে পারে কিনা, কীভাবে দখল করবে, দখল করে কী করবে, তা জানি না। তবে এটা জানি, দিদিমণি নিজে পুলিশ পাঠিয়ে বিরোধী বিধায়কদের দখল করেন। এই যেমন কিছুদিন আগে মানস ভুঁইয়াকে দখল করলেন। পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার ভারতী ঘোষ বকলমে জেলা তৃণমূলের সর্বময় নেত্রী। খড়্গপুর পুরসভায় ভোটের দিন তিনি নির্লজ্জরকমের পক্ষপাতিত্ব এবং হস্তক্ষেপ করেছিলেন। শুধু পশ্চিম মেদিনীপুরে নয়, প্রতিটি জেলায় পুলিশ দিয়ে বিরোধী দলের মেরুদণ্ড ভাঙা হচ্ছে। যদি ধরেও নিই যে সেনাবাহিনী রাজ্য দখল করতে এসেছিল, তার সমালোচনা কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে মানায়?
নোট বাতিলের পর নরেন্দ্র মোদি সংসদে নিজের বক্তব্য জানাচ্ছেন না। বিরোধীরা বলছে, মোদি পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। সংসদে মোদির মোদির উপস্থিতির দাবিতে বিক্ষোব দেখাচ্ছেন বিরোধীরা। এই বিক্ষোভে তৃণমূলও সামিল। কিন্তু দিদিমণি, আপনি নিজে বিধানসভায় কটা বিতর্কে অংশ নিয়েছেন ? কটা প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন ? নিজের মর্জি মতো বিধানসভায় যান। তাৎক্ষণিক বক্তৃতা দিয়ে চলে আসেন। এমনকি প্রায় সব দপ্তরের বাজেটই বিতর্ক ছাড়াই পাস হয়ে যায়। আপনার মুখে কি মোদির নিন্দা মানায় ?


