1. লোকে চিঠি লিখতেই ভুলে গেছে। কিন্তু ভোরে উঠে যদি চিঠি লেখেন, তাহলে কেমন হয়? এই নিয়ে লিখেছেন মনোবিদ কুণাল সাহা।

কত চিঠি লেখে লোকে, কত সুখে প্রেমে আবেগে স্মৃতিতে, কত দুঃখে ও শোকে। সেই কতকাল আগে লেখা সুকান্তর কবিতা। কিন্তু এখন যেন চিঠি লেখার রেওয়াজটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ডাকবাক্সগুলো প্রায় ফাঁকাই পড়ে থাকে। শেষ আপনার বাড়িতে কবে চিঠি এসেছে, মনে করে দেখুন। ইলেকট্রিক বিল, টেলিফোন বিল দিতে পিওন মাঝে মাঝে আসে ঠিকই। কিন্তু ব্যক্তিগত চিঠি শেষ কবে এসেছে?

chithi

আচ্ছা, আপনি নিজে শেষ চিঠি কবে লিখেছেন? দু লাইনের ইমেল বা হোয়াটস আপ, ফেসবুক চ্যাটের কথা বাদ দিন। কাগজে কলমে চিঠি। কবে সেই চিঠি খামে ভরে ডাকবাক্সে ফেলেছেন? ছোট ছোট অনুভূতিগুলো আমরা কেমন যেন হারিয়ে ফেলছি।
সত্যজিৎ রায় রোজ ভোরে উঠে কী করতেন ? সবার আগে তিনি চিঠি লিখতে বসতেন। অনেক চিঠি জমে থাকত। শুটিং চলাকালীন লেখা হত না। তবে একটু ফুরসত পেলেই বসে যেতেন বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সেইসব চিঠি নিয়ে। একের পর এক চিঠির উত্তর লিখতেন। কাউকে হয়ত নিজে থেকেই লিখলেন। রোজ তিনটে বা চারটে চিঠি লিখতেন। তখনও বাড়ির অন্য কেউ হয়ত ঘুমিয়েও ওঠেননি। তারপর কাজ শুরু করতেন।

সারা জীবন রবি ঠাকুর যে কত চিঠি লিখেছেন, তার হিসেব নেই। কিছু চিঠির হয়ত নমুনা পাওয়া যায়। কিন্তু অনেক চিঠির কোনও কপি নেই। বুদ্ধদেব গুহর লেখার একটা বড় অংশজুড়ে রয়েছে এই চিঠি। চিঠিকেন্দ্রিক বেশ কিছু উপন্যাসও আছে। সেগুলি পড়তে পারেন। তাহলেই বুঝতে পারবেন চিঠির রোমাঞ্চ কতটা।

অনেকে ভাবেন, লেখালেখির অভ্যেস তো নেই। তাই চিঠি লিখতে পারব না। একবার চেষ্টা করেই দেখুন না। আপনি তো আর দেশ পত্রিকায় লেখা পাঠাচ্ছেন না। নিকট কোনও বন্ধুকে চিঠি পাঠাচ্ছেন। তাহলে এত সংকোচ কীসের? প্রথম প্রথম হয়ত জড়তা থাকবে। দেখবেন, আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হয়ে যাচ্ছে। তখন আত্মবিশ্বাস ফিরে পাবেন।

যতই নেটের যুগ আসুক, যতই হোয়াটস আপ বা ফেসবুক আসুক, চিঠির কোনও বিকল্প হয় না। এখনও চিঠি লেখা ও চিঠি পাওয়ার মধ্যে যে আনন্দ আছে, তা অন্য কোনও মাধ্যমে নেই। যে এই রোমাঞ্চ পেয়েছে, একমাত্র সেই বোঝে এর মর্ম।
তাহলে, আর দেরি কেন? আপনিও শুরু করে দিন। কাল থেকে নয়, সম্ভব হলে আজ থেকেই।

Previous post পঞ্চাশ বছরে একদিনের যাত্রাপথ
Next post কিশোর মনে ঝড় তোলা সেই শত্রু

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *