আজ সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্মদিন। কয়েকদিন পরেই পর্দায় আসছে ইয়েতি অভিযান। তবে কাকাবাবু পড়া আর কাকাবাবু দেখার মধ্যে অনেক তফাত। প্রতিবার পুজো সংখ্যায় আবার যদি কাকাবাবু–সন্তুকে ফিরে পাওয়া যায়, কেমন হয়! জন্মদিনে এমন প্রস্তাব ভাসিয়ে দিলেন অমিত ভট্টাচার্য।।
পুজো এলেই মনে পড়ে যায় তাঁর কথা। ভরা পুজোর মাঝে গভীর রাতে চিরতরে হারিয়ে গিয়েছিলেন নীললোহিত। বাঙালির পুজো সেবার যেন মাঝপথেই বিসর্জন হয়ে গিয়েছিল। তিনি যে নেই, আমরা প্রায় মেনেই নিয়েছি।
আর কোনও সভাসমিতিতে নেই সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। আর কোনও পুজো সংখ্যায় তাঁকে পাওয়া যায় না। ছবির পর্দায় কাকাবাবু হয়ে একবার ফিরে এসেছিলেন। এই পুজোতেও আসবেন। সৃজিত মুখার্জি যতই ছবি করুন, কাকাবাবু পড়া আর কাকাবাবু দেখার মধ্যে অনেক তফাত। যাঁরা নীললোহিত পড়েননি, যাঁরা কাকাবাবু পড়েননি, তাঁরা জানেন না, তাঁরা কী হারিয়েছেন।
এর মধ্যেই মূলস্রোত কাগজের হাফ ডজন পুজো সংখ্যা বাজারে এসে গেছে। আনন্দবাজার গোষ্ঠীর তিন খানা পুজো সংখ্যা তো জুলাইয়েই বেরিয়ে গেছে। আনন্দমেলা খুললেই খুব মিস করি কাকাবাবুকে। অনেক অনেককিছুই আছে। অনেকেই গোয়েন্দা গল্প লিখছেন। কিন্তু কাকাবাবু নেই।

মাঝে মাঝে মনে হয়, নতুন লেখকের নতুন লেখার পাশাপাশি যদি কয়েকটি পুরনো লেখাও ছাপা যেত! আনন্দমেলায় গোটা পাঁচেক উপন্যাসের মধ্যে একটা পুরনো থাকলে কি খুব ক্ষতি হয়ে যেত? এতদিন ধরে সেখানে কাকাবাবুর এত উপন্যাস বেরিয়েছে, সেগুলি থেকে একটি করে আবার ছাপাই যেত। আমি নিশ্চিত, এই সময়ের লেখা মানুষ যত না পড়বেন, তার থেকে বেশি লোক পড়বেন কাকাবাবু। ঠিক তেমনি আনন্দবাজার বা পত্রিকার পুজো সংখ্যায় নীললোহিত ছাপা যেতে পারে।
আনন্দমেলা যতই কিশোরদের পত্রিকা হোক, কতজন কিশোর পড়েন, সন্দেহ আছে। আমি নিজে মাঝবয়সের মানুষ। ছোটবেলার অভ্যেস থেকেই আনন্দমেলা পড়ি। আমার থেকে বেশি বয়সীরাও সেই কারণেই পড়েন। কিশোরের জন্য হয়ত কেনা হয়। দেখা যায়, তার বাবাই পড়ছেন। জানি না, পত্রিকাগোষ্ঠী পাঠকদের নিয়ে কোনও সমীক্ষা করেছেন কিনা। তবে, আমার মনে হয়, আনন্দমেলার অন্তত ষাট ভাগ পাঠকের বয়স তিরিশের ওপরে।
তাই, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্মদিনে আমার বিনীত প্রস্তাব, প্রতিবছর আনন্দমেলায় কাকাবাবুর পুরনো উপন্যাস ছাপা হোক। এমনকী ফেলুদাও ছাপা যেতে পারে। ছয়–সাতটি উপন্যাসের ভিড়ে দুটি পুরনো লেখা থাকুক। এই প্রজন্মের কাছে কাকাবাবুকে তুলে ধরতে হবে না? কাকাবাবু সমগ্রতে হয়ত পাওয়া যাবে। কিন্তু পুজো সংখ্যার মধ্যে দিয়ে যদি কিশোর পাঠকের কাছে পৌঁছে যাওয়া যায়, মন্দ কী?
