এপার বাংলার লেখকের সাক্ষাৎকার খুঁজতে হবে ওপার বাংলার চ্যানেলে !

এপার বাংলার লেখকের সাক্ষাৎকার খুঁজতে হবে ওপার বাংলার চ্যানেলে !

জগবন্ধু চ্যাটার্জি

বাঙালির বিরুদ্ধে মস্ত এক দুর্নাম। বাঙালি ডাউনলোড করে, কিন্তু আপলোড করে না। কয়েক বছর আগের কথা। আপনি যদি গুগলে গিয়ে বাংলায় সত্যজিৎ রায় লিখতেন, তাহলে যেসব লিঙ্ক দেখাত, তার অধিকাংশই বাংলাদেশের। অর্থাৎ, সত্যজিৎ রায় নিয়ে আমাদের এখানে কী লেখালেখি হয়েছে, সেসবের হদিশ নেই। বাংলাদেশের কাগজে কী লেখালেখি হয়েছে, সেইসব লিঙ্ক আপনার সামনে ভেসে উঠবে।

sahitya

এটা শুধু সত্যজিৎ রায়ের ক্ষেত্রে নয়। রবীন্দ্রনাথ বা নজরুলের ক্ষেত্রেও প্রজোয্য। এমনকী, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় বা সমরেশ মজুমদারের ক্ষেত্রেও সত্যি। খুব রাগ হত। এপার বাংলার সাহিত্যিক। তাঁর সম্পর্কে জানতে কিনা ওপার বাংলা কাগজের লিঙ্ক দেখতে হবে!‌ আমরা কি এতটাই অপদার্থ!‌ আমাদের এপার বাংলার পত্রপত্রিকার লেখা কেন লিঙ্কে আসছে না?‌ সমস্যাটা কোথায়?‌ সফটওয়ারের নাকি প্রযুক্তির?‌ নাকি মানসিকতার?‌

গত কয়েক বছরে অবশ্য ছবিটা অনেকটাই বদলেছে। এখন এপার বাংলার পত্রপত্রিকার লিঙ্কও দিব্যি ভেসে ওঠে। কিন্তু ইউটিউব ভিডিও দেখতে গেলে একইরকম হতাশ হতে হয়। এই লকডাউনে অনেকের সামনেই ছিল অখণ্ড অবসর। যার যেমন আগ্রহ, সে সেই অনুযায়ী ইউটিউব ভিডিও ডাউনলোড করেছেন। আমার সাহিত্য সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহটা বেশি। স্বভাবতই, বাংলার কবি–‌সাহিত্যিকদের সাক্ষাৎকার দেখতে চেয়েছি। কখনও সমরেশ মজুমদার, সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় নাম লিখে সার্চ করেছি। সেখানেও আমাদের এখানকার চ্যানেলের সাক্ষাৎকার সেভাবে পাইনি। পেয়েছি বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলের সাক্ষাৎকার। অর্থাৎ, আমাদের এপার বাংলার লেখকরা যখন ঢাকায় গেছেন, তখন সেখানকার প্রথমসারির চ্যানেলগুলো প্রাইম টাইমে তাঁদের সাক্ষাৎকার দেখিয়েছে। অথচ, আমাদের চ্যানেলগুলোর সময় হয় না এইসব কিংবদন্তিদের সাক্ষাৎকার নেওয়ার। এমনকী আর্কাইভেও আছে বলে মনে হয় না।

সত্যিই খুব কষ্ট হয়। শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের সাহিত্য নিয়ে জানতে বাংলাদেশের চ্যানেলের দ্বারস্থ হতে হবে?‌ সমরেশ মজুমদার সম্পর্কে বাংলাদেশের চ্যানেল যতখানি শ্রদ্ধাশীল, আমরা কেন তার সিকিভাগ শ্রদ্ধাশীলও থাকতে পারি না?‌ আশার কথা, ইদানীং অসংখ্য ইউটিউব চ্যানেল হয়েছে। তাঁরা অন্তত এইসব কৃতী মানুষদের সাক্ষাৎকার রেকর্ড করে রাখছেন। তাই কিছুটা পাওয়া যাচ্ছে। নিজেদের সম্পর্কে আমরা সত্যিই বড় উদাসীন। ফলে, একের পর এক ইতিহাস ও অজানা গল্প ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে। সেইসব পুরনো দিনের কথা বলার লোকগুলোও হারিয়ে যাচ্ছেন। এখনও সময় আছে, এগুলো সংরক্ষণ করে রাখা খুব জরুরি। যে যার মতো করে সেই কাজ শুরু করুন।

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.