রক্তিম মিত্র
দুপুর নাগাদ রাজ্যের ভোটের ফলাফল প্রায় পরিষ্কার। শেষমেষ কার কটা আসন হবে, তা নিয়ে আর কারও তেমন কৌতূহল নেই। তৃণমূল যে আবার সরকার গড়ছে, তা নিয়ে তখন আর কোনও সংশয় নেই। বিকেল নাগাদ রটে গেল, মমতা ব্যানার্জা নন্দীগ্রামে জিতে গেছেন। ব্যাস, সব চ্যানেলে খবরটা ছড়িয়ে পড়ল। সংবাদসূত্র নাকি এএনআই।
ভাবতেও অবাক লাগে, ভোট হচ্ছে নন্দীগ্রামে। সেখানে সব কাগজের, সব চ্যানেলের প্রতিনিধি হাজির। অথচ, খবরের জন্য বাংলা চ্যানেলকে কিনা ভরসা করতে হচ্ছে এএনআই–এর ওপর! শেষমেষ জানা গেল, মমতা ব্যানার্জি নন, নন্দীগ্রামে জয়ী শুভেন্দু অধিকারী।
নিজের হারকে মুখ্যমন্ত্রী যে সহজে মেনে নেবেন না, এটা মোটামুটি জানা কথাই। একবার বললেন, জোর করে হারানো হয়েছে। একবার বললেন, আমাকে জয়ী ঘোষণা করা হয়ে গিয়েছিল, তারপর বদলে ফেলা হয়। একবার বললেন, রিটার্নিং অফিসারকে ভয় দেখিয়ে ফল উল্টে দেওয়া হয়েছে। একবার বললেন, গোটা রাজ্যে জিতলাম, তাহলে ওখানে কীভাবে হারতে পারি?
এত বিশাল জয়ের পরেও আবোল তাবোল বকার অভ্যেসটা গেল না। একজন দায়িত্বশীল মুখ্যমন্ত্রী এরকম লাগামছাড়া মিথ্যে বলে যেতে পারেন! যত বড় ব্যবধানেই তৃণমূল জিতুক, মিথ্যেটাকে মিথ্যেই বলতে হবে। এবং এই অভ্যেস সহজে যাওয়ার নয়। সেটাই তিনি ফের বুঝিয়ে দিলেন।
মমতা যে জয়ী, কে ঘোষণা করেছিল? সরকারিভাবে কোনও ঘোষণা হয়েছিল? দলের লোকজন শেষপর্যন্ত অপেক্ষা না করেই ভিক্ট্রি সাইন দেখিয়ে লাফালাফি করলে তার দায় নির্বাচন কমিশনের? আগে দেখাতে হবে, এই তাড়াহুড়োয় এএনআই যদি জয়ী ঘোষণা করে দেয়, বাংলা চ্যানেলগুলি যদি ঘণ্টার পর ঘণ্টা নির্বোধের মতো সেটাই চালাতে থাকে, সেটার জন্য নির্বাচন কমিশন দায়ী?
তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। দুপুরের মধ্যে বিশাল জয়ের দিকে এগিয়ে চলেছে তাঁর দল। সন্ধে নাগাদ আসন দুশো ছাপিয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে তাঁর সঙ্গে অফিসাররা কারচুপি করবেন? এটা বিশ্বাসযোগ্য? আরও একটা অদ্ভুত যুক্তি, অন্য জায়গায় জিতলাম, ওখানে হারলাম এটা হতে পারে? মনে করুন ২০০৪ এর লোকসভা ভোটের কথা। সেবার সব আসনেই তৃণমূল হেরেছিল। জিতেছিল শুধু দক্ষিণ কলকাতায়। তখন তো মনে হয়নি, সব আসনে হারলাম, একটা আসনে জিতলাম, এটা হতে পারে? সেটা যদি হতে পারে, তাহলে এটাও হতে পারে।
এতদিন ভোটের উত্তেজনা ছিল। নানা গরম গরম কথা বলেছেন। কিন্তু এখন তো দুশোর বেশি আসনে জয়ী হয়েছেন। তারপরেও লাগাতার মিথ্যে বলে যেতে হবে? কোর্টে যাওয়ার কথাও শোনা যাচ্ছে। তার মানে এটাই পরিষ্কার, এখনও হার মানতে শেখেননি মুখ্যমন্ত্রী। বিশাল জয়ও তাঁকে একটুও বদলাতে পারেনি।