‌আসল অপদার্থ কে, অভিজিৎবাবু বুঝিয়েই দিলেন

রক্তিম মিত্র

সহজ কথা যায় না বলা সহজে। কিন্তু তিনি এত মারপ্যাঁচ বোঝেন না। সহজ কথাটা একেবারে সহজেই বলে দিয়েছেন।

অভিজিৎ গাঙ্গুলি যখন হঠাৎ করে হাইকোর্টের ইনিংস থেকে ডিক্লেয়ার করলেন, তখনই বোঝা গিয়েছিল, যেখানেই যান, বেশিদিন তাঁর পক্ষে সেখানে থাকা সম্ভব হবে না। যাঁরা তদন্ত বছরের পর বছর ঝুলিয়ে রাখে, সেই মঞ্চে থেকে তিনি লড়াই করতে পারবেন না। একসময় তাঁদের প্রতিও মোহভঙ্গ ঘটবে। ঘটবেই।

বছর ঘুরতে না ঘুরতে, সেটাই দেখা গেল। সিবিআই, ইডি যে কাজের কাজ কিছুই করছে না, সেটা তিনি বিচারপতির চেয়ারে বসেই বুঝতে পেরেছিলেন। বারবার সতর্ক করেছিলেন। কখনও ভর্ৎসনাও করেছিলেন।

অন্তত এই বাংলার ক্ষেত্রে সিবিআই বা ইডি যে ভূমিকা পালন করে চলেছে, সেটাকে ব্যর্থতাও বলা যায় না। অপদার্থতাও বলা যায় না। এই শব্দগুলোও যেন কম পড়ে যায়। দু–‌একটা লোকদেখানো তল্লাশি, লোক দেখানো গ্রেপ্তার। দৌড় এই টুকুই। তাতে পাসমার্ক তো দূরের কথা, একশোয় দশ নম্বর দেওয়াও কঠিন। তারপর তাঁরা যে ভূমিকা পালন করেন, তার জন্য সিবিআই, ইডি হওয়ার দরকার নেই। যে কোনও থানার যে কোনও সিভিক ভলান্টিয়ারও তার থেকে ভাল তদন্ত করতে পারতেন।

যাই হোক, গলদটা তাহলে কোথায়?‌ কেউ কেউ বলার চেষ্টা করেন, সিবিআই এর কোনও কোনও অফিসার এই তদন্তে ঢিলেমি দিচ্ছেন। কোনও কোনও অফিসার দুর্নীতিগ্রস্থ। অভিজিৎবাবুও শুরুতে এমনটাই বলেছিলেন। তিনি একটি দলের সাংসদ। কিছু রীতিনীতি মেনে চলতে হয়। বুঝতে পারলেও সবকিছু প্রকাশ্যে বলতে নেই, বলা যায় না। কিন্তু একটা সময় তাঁরও ধৈর্যের বাঁধ ভেঙেই গেল। তিনিও সেই মৌচাকে ঢিল মেরেই বসলেন।

না, এটা কোনও সিবিআই–‌এর অপদার্থতা নয়। সিবিআই যে ভূমিকা পালন করে, তা যে কোনও ক্রিমিনালের থেকেও ঘৃণ্য। কিন্তু এটাও ঠিক, কেন্দ্র চায় বলেই তারা ঘুমিয়ে থাকে। যে সিবিআই বাড়ির পাঁচিল টপকে প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরমকে গ্রেপ্তার করতে পারে, সেই সিবিআই এই রাজ্যে ছেঁচো মস্তানদের ছুঁতে পারে না!‌ একের পর এক চুনোপুঁটিও প্রমাণের অভাবে জামিন পেয়ে যায়। বেরিয়ে এসে ভাষণ দেয়, সত্যের জয় হল। তখন এই সিবিআই–‌এর প্রতি একরাশ ঘৃণা ছাড়া আর কিছুই হয় না। মনে হয়, এঁদের থেকে জঙ্গিরাও অনেক ভাল।

সহজ কথা, সিবিআই ঘুমিয়ে থাকে। কারণ, তাঁদের ঘুমিয়ে থাকতে বলা হয়। কে বলেন?‌ এই সহজ সত্যিটা কার্যত ফাঁস করে দিলেন অভিজিৎ গাঙ্গুলি। বিরোধীরা যা খুশি বলতেই পারেন। কিন্তু বিজেপির একজন সাংসদ হয়ে এতবড় কথাটা বলতে গেলে বুকের পাটা লাগে বইকি। অভিজিৎবাবু যেটা বলেছেন, সেটা হয়তো শুভেন্দুবাবুরও মনের কথা। কী জানি, হয়তো সুকান্ত মজুমদার, শমীক ভট্টাচার্যরাও মনে মনে এমনটাই বলছেন। যাঁরা এই রাজ্যে বিজেপিকে সত্যিই ভালবাসেন, যাঁদের একটু হলেও পড়াশোনা ও বিচারবুদ্ধি আছে, তাঁরা সবাই বুঝছেন, সিবিআই কেন ঘুমিয়ে থাকে।

ঘৃণা যদি করতেই হয়, ভুইফোঁড় ভাইপো বা তাঁর পিসিকে নয়। যে লোক দুটো সিবিআই বা ইডিকে এতখানি অপদার্থতার স্তরে নামিয়ে এনেছেন, তাঁদের করুন। ধন্যবাদ অভিজিৎবাবু, সহজ কথাটা এত সহজভাবে বলার জন্য। আপনি প্রণম্য ছিলেন, আছেন, থেকেও যাবেন।

Previous post কবিতা:‌ পিছুটান
Next post অডিওবুকের এই রমরমা, শুরু করেছিলেন সলিলই

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *