সুমিত চক্রবর্তী
কয়েকদিন ধরেই পাহাড়ে ঘাঁটি গেড়ে আছেন রজনীকান্ত। পাহাড় মানে দার্জিলিং নয়। কার্শিয়াং থেকে অনেকটা উপরে। ডাউহিলের কাছে, নয়াবস্তি এলাকায়। পর্যটকদের কাছে তেমন পরিচিত নাম নয়। কিন্তু এমন একটা দারুণ জায়গা খুঁজে বের করেছে রজনীকান্তের প্রোডাকশন টিম।
হঠাৎ করে তাঁরা বাংলার পাহাড়ে শুটিং করতে চলে এলেন, এমন নয়। অনেকদিন ধরেই খোঁজখবর চলছিল। দেশের নানাপ্রান্তের পাহাড়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন। তারপর তাঁরা পছন্দ করেছেন পাহাড়ের এই জায়গাটিকে। আপাতত দেড় মাস রজনীকান্তের ঠিকানা এই অচেনা জায়গায়।
ভাবতে অবাক লাগে, তামিলনাড়ু থেকে রজনীকান্তের টিম এসে শুটিং করে গেল। কিন্তু বাংলার পরিচালকরা কথায় কথায় বিদেশ ছোটেন কেন? একটা গানের জন্য সিঙ্গাপুর বা মালয়েশিয়ায় গিয়ে শুটিং করতে হচ্ছে। এতে ছবির মান কী বাড়ে, তাঁরাই জানেন। এই পাহাড়ে আসতে তাঁদের ইচ্ছে করে না? আসলে, এসব জায়গায় তাঁরা কখনও আসেননি।
কৌশিক গাঙ্গুলি, অঞ্জন দত্তর ছবিতে উত্তরবঙ্গকে কিছুটা খুঁজে পাই। গৌতম ঘোষ, ঋতুপর্ণ ঘোষের ছবিতেও উত্তরবঙ্গ ধরা দিয়েছে। কিন্তু বাকি পরিচালকরা যেন মুখ ফিরিয়েই রয়েছেন। সৃজিত ছুটছেন মিশরে, সুইজারল্যান্ডে। কমলেশ্বর ছুটছেন আফ্রিকায়, ব্রাজিলে। কিন্তু উত্তরের এই পাহাড়ের দিকে তাঁদের পা পড়ে না।
তারকাদেরও বোধ হয় তাগিদ নেই। প্রসেনজিৎ, দেবরা তো পারেন পরিচালক বা প্রযোজককে বোঝাতে। তাঁদের কথা সহজে ফেলতে পারবেন না পরিচালকরা। কিন্তু তাঁরাও জোর দিয়ে উত্তরবঙ্গের কথা বলেছেন বলে মনে হয় না।
রজনীকান্ত এসে দেখিয়ে গেলেন, এই পাহাড়ে কী আছে। আর আমাদের বাংলার তারকারা কথায় কথায় ছোটেন বিদেশে। রজনীর কাছে আমরা কি কিছু শিখলাম?

