বেঙ্গল টাইমস। ই ম্যাগাজিন। উইশফুল থিঙ্কিং

চাইলে প্রার্থীর সংখ্যা আরও বাড়ানো যেত। আরও কিছু উইশফুল থিঙ্কিং বাড়ানো যেত। রাজ্য ছেড়ে দেশের পরিসরেও উঁকি দেওয়া যেত। কিন্তু কোথাও তো একটা থামতে হয়। তাই এমন দশটি লেখাই বেছে নেওয়া হল। কোনওটা মিলবে। কোনওটা হয়তো মিলবে না। নাই বা মিলল!‌ চাওয়াটা তো মিথ্যে নয়। একটু অন্যরকম ভাবনা। পড়ে দেখুন। মতামত জানান।

ভি ফর ভিক্টর

এই বাংলায় মাস লিডার কারা?‌ এক, দুই, তিনে যাচ্ছি না। তবে এটুকু নিশ্চিত করেই বলা যায়, শাসক–‌বিরোধী সব মিলিয়ে প্রথম পাঁচে থাকবে ভিক্টরের নামটা। তবু বাংলার মানুষের কাছে নামটা ততটা পরিচিত নয়। আসলে, ভিক্টরকে একে–‌তাকে ধরে চ্যানেলে বসতে হয়নি। তাঁকে লম্বা ফেসবুক পোস্ট করতে হয়নি, নিজের ছবি সাঁটিয়ে কটা লাইক পড়ল, সেটা গুনে যেতে হয়নি।

‌তোমার বাড়ি আমার বাড়ি মকাইবাড়ি, মকাইবাড়ি

আপনার কাছেই তো সেই ঐতিহাসিক নকশালবাড়ি। সেখানে গণ অভ্যুত্থানের সময় একটা স্লোগান উঠেছিল, ‘তোমার নাম, আমার নাম/ভিয়েতনাম ভিয়েতনাম।’ তখন আমার জন্মও হয়নি। কিন্তু স্লোগানটার কথা কতবার যে শুনেছি! ওই ছন্দের সঙ্গে মিলিয়ে বলতে ইচ্ছে করত, ‘তোমার বাড়ি, আমার বাড়ি/মকাইবাড়ি মকাইবাড়ি।’

অধীর হতে গেলে বুকের পাটা লাগে‌

অধীর শুধু কংগ্রেসের প্রতীক নন। তিনি আসলে লড়াইয়ের প্রতীক। লড়াই কঠিন জেনেও হাল না ছাড়ার প্রতীক। যে বামেরা একসময় অধীরকে চরম অপছন্দ করতেন, অধীরের জয়ে তাঁরাও কি খুশি হবেন না?‌ বিজেপি–‌র নিচুতলার কর্মীরাও নিশ্চয় অখুশি হবেন না। এমনকী তৃণমূলের ভেতরের বিরাট একটা অংশও মুখে যাই বলুন, মনে মনে খুশিই হবেন। হ্যাঁ, এটাই অধীরের ক্যারিশ্মা।

সব চা একইরকম, প্যাকেটগুলো আলাদা

একবার লন্ডনে হোটেলে সকালে চা খাচ্ছি। ম্যানেজার দেখলাম, দাঁড়িয়ে আছে। কিছু বলবে। আমি তাকালাম। ম্যানেজার বলল, স্যার, এটা ফেমাস দার্জিলিং টি। ওই ছোকরা আমাকে দার্জিলিং চেনাচ্ছে। ও জানে না যে দার্জিলিংটা পশ্চিমবঙ্গে আর আমি সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী। ও জানুক আর না জানুক, বিদেশির মুখে দার্জিলিং চায়ের সুনাম শুনে ভাল লাগল। বেশ গর্বই হল। কিন্তু দার্জিলিং চা খেতে আমাকে লন্ডন যেতে হবে কেন?‌ এখানে কেন পাব না?‌ আজ বুঝতে পারছি, এই সৌগতবাবুরা সব চা–‌ই বিদেশে পাঠিয়ে দিচ্ছেন।

দলবদলুদের অর্ধচন্দ্র চাই

এই রাজ্যে দলবদল যেভাবে স্বাভাবিক প্রবণতা হয়ে দাঁড়িয়েছে, তাতে কোথাও একটা লাগাম টানা দরকার। কে এই লাগাম টানবে?‌ স্পিকার মশাই যথার্থই ঠুঁটো জগন্নাথ। অন্য দলে কেউ গেলে মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের ‘‌গদ্দার’‌ বলেন ঠিকই, কিন্তু অন্য দলের নির্বাচিত বিধায়ক বা সাংসদ তাঁর দলে এলে দরজা খুলে দেন।

চটকপুর এত দুর্গম থাকবে কেন?‌

চটকপুরের মতো এত সুন্দর জায়গা বঞ্চিত থাকবে কেন?‌ জিটিএ নাকি উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর, পূর্ত দপ্তর নাকি পর্যটন দপ্তর, কারা এই দায়িত্ব নেবে জানি না। তবে পর্যটনের স্বার্থে এবং সেই সুন্দর পাহাড়ি গ্রামের স্বার্থে দ্রুত এই রাস্তা মেরামত করা দরকার। বিষয়টি যেহেতু পর্যটনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে, তাই পর্যটন দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। অন্যান্য দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করে নিশ্চয় তাঁরা একটা উপায় ঠিক খুঁজে বের করবেন, এই আশা রাখি।

কোনটা সাফল্য, কোনটা ব্যর্থতা, প্রধানমন্ত্রী আদৌ বোঝেন!‌

গরু পাচার, কয়লা পাচার, এগুলো আটকানো কার দায়িত্ব, প্রধানমন্ত্রী বোধ হয় ভুলে যান। দশবছর প্রধানমন্ত্রী থাকার পরেও জোর গলায় চিৎকার করেন, গরু পাচার হচ্ছে, কয়লা পাচার হচ্ছে। এই ব্যর্থতার দায় কার?‌ থাপ্পড়টা এসে কি নিজের গালেই লাগছে না?‌ কোনটা তাঁর সাফল্য, কোনটা তাঁর ব্যর্থতা, এই সাধারণ বোধটাই হারিয়ে ফেলেন। লিখেছেন রক্তিম মিত্র।

ভাইপো নয়, এবার ‘‌ভাগ্নে’‌ বলতে শিখুন

বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্বকে দেখে কিছুটা করুণাই হয়। তাঁরা আন্তরিকভাবেই চান, সিবিআই জোরদার তদন্ত করুক। একে–‌তাকে জেলে ভরুক। তাহলেই কেল্লা ফতে। কিন্তু দিল্লির কাছে তাঁরা যে নেহাতই ছাগলের তৃতীয় সন্তান, এটুকু তাঁরা এখনও বুঝে উঠতে পারছেন না। সবার সন্দেহের তীর যাঁর দিকে, তিনি এখনও কী অবলীলায় হুঙ্কার ঝেড়ে চলেছেন। কখনও বলছেন, সিবিআই–‌ইডি আমার কাঁচকলা করবে। কখনও বলছেন, আমার বিরুদ্ধে একটা প্রমাণ দেখিয়ে দিন। কখনও বলছেন, ধর্নায় দিল্লি অচল করে দেব।

কল্যাণবাবুদের জন্য কোনও সহানুভূতিও থাকবে না

এমপি হিসেবে তিনি কেমন?‌ বিস্তারিত বলতে পারব না। তবে গণমাধ্যমে যেটুকু সামনে এসেছে, তাঁর জন্য গর্বিত হওয়ার মুহূর্ত খুঁজে পাইনি। বরং, তিনি একটি আস্ত ভাঁড়, এমনটাই বারবার মনে হয়েছে। বারবার মনে হয়েছে, এইসব অসভ্য লোকেরা সাংসদ হন কী করে?‌