দোকান খোলার ক্ষেত্রে ইচ্ছুক-অনিচ্ছুক দেখা হবে না কেন?

মিন্টু রায়

প্রথমেই জানিয়ে রাখি, আমি বাম সমর্থক হলেও ধর্মঘটের পক্ষে নই। আমি মনে করি, এতে সাধারণ মানুষেরও বিশেষ লাভ হয় না। যে দল বনধ ডাকে, তাদেরও কোনও লাভ হয় না। বনধ করার জন্য কোনও দলের ভাবমূর্তি বিরাট উজ্জ্বল হয় বলে মনেও করি না।

কিন্তু বনধ ভাঙার জন্য শাসক দল যেটা করছে, সেটা আরও ভয়ঙ্কর। প্রশাসন সক্রিয় হতেই পারে। প্রশাসন দোকান খোলা রাখার বা গাড়ি চালানোর আবেদন জানাতেই পারে। কিন্তু হুমকি দেখানো অত্যন্ত নিম্নরুচির কাজ। হাওড়া এলাকায় আমি থাকি। চোখের সামনে দেখলাম, আগের দিন কী ভাষায় হুমকি দেওয়া হল। শুক্রবার বন্ধ থাকলে আর কোনওদিন দোকান খুলতে দেব না। যেদিন দোকান খোলা হবে, সেদিনই ভাঙচুর করা হবে। পুলিশের সামনেই এই জাতীয় হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

bandh3

বন্ধের দিন দেখলাম, গায়ের জোরে, হুমকি দিয়ে দোকান খোলানো হল। পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে। আমিও বনধের বিরোধী। কিন্তু জোর করে দোকান খোলানোর পক্ষপাতি নই। মুখ্যমন্ত্রী বনধ বিরোধী হতেই পারেন। কিন্তু তিনি কি গায়ের জোরে দোকান খোলানোর পক্ষপাতি ? সেটা জানা দরকার। এই বিষয়ে পুলিশের বক্তব্যটাও জানা দরকার।
জমি নেওয়ার ক্ষেত্রে ইচ্ছুক-অনিচ্ছুক যদি গুরুত্বপূ্র্ণ হয়, দোকান খোলার ক্ষেত্রে দোকানির ইচ্ছে-অনিচ্ছে গুরুত্ব পাবে না কেন ? হ্যাঁ, যদি কেউ জোর করে বন্ধ করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যবস্থা নিক। পাশাপাশি যারা জোর করে খোলাতে চায়, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
জানি, এসব কোনও কিছুই হবে না। কারণ, সরকার গুন্ডামিই চায়।

(এটি ওপেন ফোরাম। মতামত লেখকের ব্যক্তিগত।)

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *