গণ্ডমূর্খদের মুখে ‘‌দেশপ্রেম’‌ বড্ড বেমানান

ধীমান সাহা

পাকিস্তানের সঙ্গে খেলা হলেই আমাদের বড্ড বেশি করে ‘‌দেশপ্রেম’‌ পায়। কে কত দেশপ্রেমী, তা জাহির করার একটা প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়।

ভারত–‌পাক লড়াই মানে আগেও ছিল টান টান উত্তেজনা। তখন লড়াইটা ছিল গাভাসকার বনাম ইমরানের, নয়ের দশকে তা হয়ে দাঁড়াল শচীন বনাম আক্রামের। কিন্তু এখন ক্রিকেটীয় বিষয় নিয়ে কোনও চর্চা নেই। ভারতীয় খেলোয়াড়রা পাক ক্রিকেটারদের সঙ্গে আদৌ হাত মেলাবেন কিনা, চ্যাম্পিয়ন হলেও ট্রফি নেবেন কিনা, তাই নিয়েই যত আলোচনা। আর টিভি অ্যাঙ্কারদের তীব্র চিৎকার।

ভারতীয় অধিনায়ক টসের সময় হাত মেলালেন না। এমনভাবে সেটাকে গ্লোরিফাই করা হয়, যেন হাত না মিলিয়ে ভারত বিশ্বকাপটাই জিতে নিল। ভাবতেও অবাক লাগে, এই চূড়ান্ত অভদ্রতা, এই চূড়ান্ত অসভ্যতার ওপর দেশপ্রেমের তকমা এঁটে দেওয়া হয়। হ্যাঁ, অসভ্যতার অপর নাম এখন ‘‌দেশপ্রেম’। একজন নন ম্যাট্রিক প্রধানমন্ত্রী দেশপ্রেমকে এমন বিকৃত জায়গায় এনে ফেলেছেন।

তিনি ও তাঁর গণ্ডমূর্খ ভক্তের দল কথায় কথায় অন্যের গায়ে ‘‌দেশদ্রোহী’‌ তকমা এঁটে দেন। এবার পাল্টা প্রশ্ন ফিরিয়ে দেওয়ার সময় এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারকে ঢের সম্মান দেওয়া হয়েছে। কিন্তু যিনি সেই চেয়ারে বসছেন, নিজের চেয়ারের সম্মান রাখার দায় তাঁর যদি না থাকে, তাহলে অন্যদের কেন থাকতে যাবে?‌ মূর্খকে গলা চড়িয়ে মূর্খ বলার সময় এসেছে। যিনি কোন স্কুল থেকে মাধ্যমিক পাস করেছেন, বলতে পারেন না, তিনি অন্যকে দেশপ্রেমের পাঠ শেখাবেন?‌ দেশের মানুষের এত দুর্দিন আসেনি।

এতদিন পড়েছিলেন পাকিস্তানকে নিয়ে। এবার এল বাংলাদেশ। অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ চলছে। সেখানে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে খেলা। ভারতীয় অধিনায়ক টসের সময় হাত মেলালেন না। তা নিয়ে কী তারস্বরে চিৎকার!‌ মনে হল, ক্রিকেটাররা বোধ হয় বিরাট কিছু করে ফেলেছেন। হাত না মেলানোর সিদ্ধান্ত নিশ্চয় এই তরুণ ক্রিকেটারদের নয়। কোনও না কোনও জায়গা থেকে নিশ্চয় এমন নির্দেশ এসেছে। অমিত শাহর মাকালফল পুত্র জয় শাহর নির্দেশে যে বোর্ড চলে, তাদের কাছে এটাই প্রত্যাশিত।

এরা বিজেপির লেজুড়বৃত্তি করতে করতে নিজেদের কোথান এনে দাঁড় করিয়েছেন, নিজেরাও জানেন না। যে অসভ্যতা বিজেপির অ্যাজেন্ডা, সেটাকে এঁরা বোর্ডের অ্যাজেন্ডা বানিয়ে ফেলেছেন। পাকিস্তানের ক্ষেত্রে না হয় প্যাহেলগাঁওয়ের বাহানা ছিল। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কী বাহানা?‌ সেখানে নাকি সংখ্যালঘুদের ওপর অবিচার হচ্ছে। এই কথা কে বলছে?‌ যারা কেন্দ্রীয় সরকারে আশি জন মন্ত্রীর মধ্যে একজনও সংখ্যালঘু মন্ত্রী রাখতে পারেনি, তারা। যাদের লোকসভায় একজনও সংখ্যালঘু এমপি নেই, তারা।

তাঁরা কিনা শেখাবেন কীভাবে সংখ্যালঘুকে মর্যাদা দিতে হয়। যেমন মূর্খ রাষ্ট্রনায়ক, তেমনই তাঁবেদাররা। এঁদের কাছে এটাই প্রত্যাশিত।

 

Previous post সবাই হাওয়া গরম করতেই ব্যস্ত, ভোগান্তি তো বাড়বেই
Next post বাংলাদেশ নেই, দীর্ঘশ্বাস আছে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *