পাগলামির নোবেল থাকলে ট্রাম্পই পেতেন

যেভাবেই হোক, তাঁকে শিরোনামে থাকতে হবে। তার জন্য নিত্য নতুন ইস্যু তৈরি করতে হবে। দরকার হলে গায়ে গা পেড়ে ঝগড়া করতে হবে। যত দিন যাচ্ছে, নিজেকে যেন হাস্যকর করে তুলছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর অবস্থা হয়েছে গাঁয়ে মানে না, আপনি মোড়লের মতো।

তাঁর ক্ষেত্রে অবশ্য ‘‌গাঁয়ে মানে না’‌ কথাটা পুরোপুরি খাটে না। তিনি আমেরিকার রাষ্ট্রপতি বলে কথা। আমেরিকার লোকেরাই তাঁকে ভোটে জিতিয়েছেন। যাঁরা ভোট দিয়েছিলেন, তাঁরাও এখন হয়তো আফশোস করছেন। কারণ, ওই চেয়ারে বসতে গেলে যে ন্যূনতম কাণ্ডজ্ঞান থাকতে হয়, তার কিছুই ট্রাম্পসাহেবের নেই।

এবার তাঁর নতুন বায়না, ভারত থেকে রপ্তানি হওয়া পণ্যের শুল্ক তিনি বাড়াবেন। যথারীতি সেই শুল্ক বাড়িয়ে পঞ্চাশ শতাংশে নিয়ে গেলেন। এর ফলে, দুই দেশের অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়বে, এসব ভাবার দায় তাঁর নেই। ভারতকে একটু শায়েস্তা করা গেছে, এতেই তাঁর আনন্দ। ভারতের অপরাধ কী?‌ ট্রাম্পমশাই প্রকাশ্যেই বলছেন, ভারত রাশিয়ার কাছে তেল কিনছে, সেই জন্যই এই শাস্তি। ভারত কার কাছে কী কিনবে, সেটা কি মার্কিন রাষ্ট্রপতি ঠিক করে দেবেন?‌ এত স্পর্ধা তাঁকে কে দিল?‌ আমেরিকা কোন দেশ থেকে কী আমদানি করবে, কী রপ্তানি করবে, তা নিয়ে তো ভারত নাক গলাতে যায় না।

ভারতের পণ্য যদি আমেরিকায় যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়, তাতে ভারতের আর্থিক ক্ষতি হবে ঠিকই, কিন্তু আমেরিকার বাজার চলবে তো?‌ ট্রাম্পমশাই ভুলে যাচ্ছেন, আমেরিকার বড় বড় কোম্পানিগুলো চলছে ভারতীয় বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদদের মেধার জোরে। আমেরিকার সমৃদ্ধির পেছনে এই ভারতীয় মেধার ভূমিকা কতটা, এটা মার্কিন রাষ্ট্রপতি ঠিকঠাক জানেন বলে মনে হয় না। তাঁরা যদি একযোগে ভারতে চলে আসেন, আমেরিকার অনেক কোম্পানি কার্যত অকেজো হয়ে যাবে।

আসলে, কেউ মানুক, আর নাই মানুক, তাঁকে মোড়ল হতেই হবে। দাদাগিরি দেখাতেই হবে। বলেছিলেন, তিনি জিতলে সাতদিনের মধ্যে রাশিয়া–‌ইউক্রেন যুদ্ধ থামিয়ে দেবেন। এখনও সেই যুদ্ধ চলছে। ভারত–‌পাক সীমান্ত সঙ্ঘর্ষ থামানোর পেছনে তাঁর কী ভূমিকা ছিল, জানা নেই। তবে রোজ নিয়ম করে নিজের ঢাক নিজেই পিটিয়ে যাচ্ছেন। না ভারত, না পাকিস্তান— কোনও দেশই প্রকাশ্যে তাঁকে কৃতিত্ব দিচ্ছে না। কিন্তু তিনি নিজেই রোজ কৃতিত্ব নিয়ে চলেছেন। এরপর বলে চলেছেন, আমি এতকিছু করছি, তার পরেও আমাকে শান্তির জন্য নোবেল দেওয়া হচ্ছে না। আজ পর্যন্ত নোবেলের জন্য কেউ এই স্তরের হ্যাংলামি করেনি। শান্তির জন্য নোবেল পাবেন কিনা, জানা নেই। তবে পাগলামির জন্য নোবেল থাকলে, এতদিনে হয়তো পেয়ে যেতেন। ‌

Previous post না বোঝা সেই স্বাধীনতাটাই ঢের ভাল ছিল
Next post স্বাধীনতার আড়ালে চাপা পড়ে থাকা অন্য পনেরোই আগস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *