আমরা চিকিৎসকরা “চিকিৎসক সমাজ” হিসেবে বড্ডো স্বার্থপর হয়ে পড়েছিলাম ! ভাবতাম মেধা, অর্থবল আর সামাজিক কৌলিন্যের জোড়ে কোনো কিছুর বিশেষ করে সমাজের তোয়াক্কা না করলেও চলবে !
আজ যখন “শাসনতন্ত্র” আমাদের প্রায় নতজানু করে দিতে চলেছে….আমরা তখন তাকিয়ে আছি সেই বৃহত্তর সমাজের দিকেই !
আপামর সমাজ দুহাত তুলে সমর্থন করছে আমাদের ! কিন্তু আমরা ?
বিদ্যালয়ে বাঙলা ভাষার দাবিতে যখন দুজন ছাত্র মারা গেল : “ওটা রাজনীতি” বলে আমরা এড়িয়ে গেছি !
পুলিশ যেদিন গুলি খেয়ে মারা গেল/ টেবিলের তলায় লুকিয়ে পড়লো : আমরা হাসি-মস্করা করেছি !
যখন ভোটের ডিউটি করতে গিয়ে শিক্ষক রাজ কুমার রায় ‘তালিবানি কায়দায়’ চার টুকরো হয়ে গেলেন : আমরা কুম্ভীরাশ্রুও বর্ষাই নি, কুম্ভকর্ণের নিদ্রায় মগ্ন ছিলাম।
সন্দেশখালিতে বিডিও সাহেব কর্মস্থলে দুর্নীতির প্রতিবাদ করে মার খেয়ে যখন হাসপাতালে ভর্তি হলেন : আমরা বৌদ্ধ লামার মতো নির্লিপ্ত থাকলাম !
উদাহরণ অজস্র !
এতো উদাসীনতার পরেও সমাজ কিন্তু পুরোপুরি আমাদের “চিকিৎসক সমাজের” পাশে ! অধার্মিক প্রশাসনের মদদপুষ্ট ‘সাম্প্রদায়িক বাহিনী’ সমাজের অংশ নয় !
দায় আরও বেড়ে গেল !
সৌজন্যে- ডাক্তার বিশ্ব প্রতিম রুদ্র।