স্বরূপ গোস্বামী
বিরোধীরা একেবারে উল্লসিত। যেন তাঁরা বিরাট এক জয় পেয়ে গেলেন। যেন জেলায় জেলায় জেলা পরিষদ গঠন করেই ফেললেন। সব পঞ্চায়েত সমিতিতে যেন বোর্ড গঠন সময়ের অপেক্ষা।
এই মামলা থেকে উল্লসিত হওয়ার কিছু নেই। এটি পর্বতের মূষিক প্রসব ছাড়া আর কিছুই নয়। আরও একদিন মনোনয়নের দিন বাড়ানো হবে। এতে বুঝি বিরাট সমাধান হয়ে গেল! রাস্তায় রাস্তায় বুঝি ‘উন্নয়ন’ দাঁড়িয়ে থাকবে না! পুলিশ বুঝি হঠাৎ করে নিরপেক্ষ হয়ে যাবে! ভোটের দিন হয়ত দিন চার–পাঁচ পিছিয়ে যাবে। তাতেই বা কী? ফলাফল কি বিরাট কিছু হেরফের হবে?
ভাবতে অবাক লাগছে। একটা গুরুতর মামলাকে কীভাবে লঘু করে দিলেন বিরোধীরা। জেলায় জেলায় সীমাহীন এই সন্ত্রাস। তার যথার্থ ছবিটা ঠিকঠাক তুলে ধরাই হল না। যা যা তথ্য বা ভিডিও ফুটেজ দেওয়া যেতে পারত, তার কতটুকু দেওয়া গেছে? আদালতে দাঁড়িয়ে সবাই ভাষণ দিয়ে গেলেন। আর বেরিয়ে এসে বাইট দেওয়ার জন্য কী ছটপটানি! কখন সন্ধেবেলায় স্টুডিও থেকে ডাক আসে! বাইরে বেরিয়ে যে সব কথা বললেন, সেগুলো তো পাড়ার চায়ের দোকানের গুলতানিতে লাল্টু–পল্টুরাও বলে থাকে। তার থেকে আলাদা কী বললেন? বাইরে ভাষণের বহর দেখেই বোঝা যাচ্ছে, ভেতরে কী অন্তঃসারশূন্য বাতেলা দিয়ে এসেছেন।
রাজ্যে সীমাহীন সন্ত্রাস। নির্বাচন কমিশনের এমন মেরুদন্ডহীন আচরণ। কোথায়, তীব্র তিরস্কার তো নেই। মন্ত্রীরা প্রকাশ্যে উস্কানি দিয়ে চলেছেন। নির্বাচন কমিশনারকে বাড়িতে গিয়ে শাসিয়ে আসছেন। কই, ধিক্কার তো নেই। প্রতিটি জেলা, অধিকাংশ ব্লকে প্রকাশ্যে গুন্ডামি। আদালত কি কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা করতে পারত না? কিন্তু সেসব কিছুই হল না। কারণ, বিরোধীরা মামলাটি একেবারে লঘু করে ফেলেছিলেন। নির্বাচন কমিশনার বিজ্ঞপ্তি জারি করে কেন পরের দিন ফিরিয়ে নিলেন, এটাই যেন বড় হয়ে উঠল। নতুন করে একদিন মনোনয়নের দিন বাড়ানোর এক্তিয়ার নির্বাচন কমিশনারের আছে কিনা, সেটা বড় প্রশ্ন হয়ে উঠল।
অর্থাৎ, পাঁচু ধর্ষণ করেছে। খুন করেছে। আরও নানা অপকর্ম করেছে। কিন্তু তার বিরুদ্ধে মামলা করা হল, পাঁচু সরস্বতী পুজোয় কেন জোরে মাইক বাজিয়েছিল। আদালত বলল, পাঁচু জোরে মাইক বাজিয়ে ঠিক করেনি। আর পাড়ার লোকের কী উল্লাস! প্রমাণ হল, পাঁচু মাইক বাজিয়ে ঠিক করেনি। হায় রে! খুন করে, ধর্ষণ করে পাঁচু দিব্যি অব্যাহতি পেয়ে গেল!
বিরোধীরা ঠিক সেটাই করলেন। আদালতও বুঝিয়ে দিল, পাঁচু জোরে মাইক বাজিয়ে ঠিক করেনি। নিন, এবার মিষ্টি বিলি করুন। আর নিজেরাই নিজেদের পিঠ চাপড়ান।