সরল বিশ্বাস
মায়াবতীকে আপনার কেমন লাগে? উত্তরটা জানা। কেউ বলবেন, দুর্নীতিপরায়ণ। কেউ বলবেন, পিছড়ে বর্গকে নিয়ে রাজনীতি করেন। কেউ বলবেন, নিজেই নিজের মূর্তি বসান।
মোটামুটি এটাই প্রচলিত ধারনা। হয়ত অনেকাংশে সত্যিও। কিন্তু এই মায়াবতীর আড়ালে অন্য এক মায়াবতীও আছেন। যাঁকে আমরা হয় চিনি না। অথবা, চিনতে চাই না।
কয়েকমাস আগের কথা। রাজ্যসভায় তাঁকে বলতে দেওয়া হচ্ছিল না। পদত্যাগ করে বসলেন। বললেন, এই যদি সংসদের অবস্থা হয়, একজন দলিতকে যদি বলতে না দেওয়া হয়, তাহলে সংসদে থেকে কী করব? এই সংসদ থেকে সরে দাঁড়াতে চাই। এটাই আমার প্রতিবাদ।
মনে হতেই পারে, স্টান্টবাজি। এমন সস্তা নাটক এই দেশ তো কম দেখেনি। হুমকি দিয়ে পদত্যাগ ফিরিয়ে নেওয়ার ঘটনাও হামেশাই ঘটে। কিন্তু মায়াবতী পদত্যাগেই অটল রইলেন। এবার রাজ্যসভার যা পরিস্থিতি, তাতে উত্তরপ্রদেশ থেকে তাঁর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কারণ, তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠাতে গেলে যতজন বিধায়ক দরকার, তাঁর দলের তা নেই। অখিলেশের নিজের দলেরই অনেকে বাদ পড়ছেন। ফলে, তিনি সাহায্য করবেন, এমনটাও হচ্ছে না।

এগিয়ে এলেন লালুপ্রসাদ যাদব। তিনি মায়াবতীকে প্রস্তাব দিলেন, বিহার থেকে রাজ্যসভায় যাওয়ার। নিজের দল থেকে লালু অন্য কাউকে পাঠাতেই পারতেন। বড় শিল্পপতিকে বা ভুঁইফোড় ব্যবসায়ীকে পাঠাতে পারতেন (যেমন আমাদের রাজ্যে পাঠানো হয়েছে। কেন এদের পাঠানো হয়, সবাই জানে)। কিন্তু তিনি চাইলেন বিজেপি বিরোধী প্রচারের অন্যতম মুখ মায়াবতী যেন রাজ্যসভায় থাকেন। লালুপ্রসাদের এই আত্মত্যাগও অবশ্যই প্রশংসার যোগ্য।
অন্য কেউ হলে রাজি হয়েই যেতেন। বাংলা থেকে রাজ্যসভায় যাবেন বলে কত লোকের নবান্নে বা কালীঘাটে আনাগোনা চলছে। সেখানে মায়াবতী যেন ব্যতিক্রম। জানিয়ে দিলেন, তিনি রাজ্যসভায় যেতে আগ্রহী নন। যতদিন এই সরকার থাকবে, ততদিন তিনি রাজ্যসভায় যাবেন না। এটাই তাঁর প্রতিবাদ। মায়াবতী সম্পর্কে যত অভিযোগই থাক, অন্তত এই রাজনৈতিক সততাটুকুর জন্য কুর্নিশ জানানোই যায়।
মুশকিলটা হল, বিজেপি বিরোধী ভোটে জিতে নীতীশ কুমার মুখ্যমন্ত্রী হন। তারপর তিনি ভিড়ে যান বিজেপি শিবিরে। তিনি হয়ে যান সৎ মানুষ। তিনি হয়ে যান উন্নয়নের মুখ। অথচ, নানা প্রলোভন উপেক্ষা করেও লালুপ্রসাদরা অন্তত রাজনৈতিক মূল্যবোধটা ধরে রাখেন। তাঁরা হয়ে যান খারাপ লোক। এই একটা ঘটনা দেখিয়ে দিল লালুপ্রসাদের দায়বদ্ধতা। বুঝিয়ে দিল, মায়াবতীর প্রতিবাদটাও নিছক লোক দেখানো নয়। গোটা দেশ ভেসে আছে শ্রীদেবী হাওয়ায়। কাগজ জুড়ে শুধু শ্রীদেবী। টিভি জুড়েও তাই। সেই কারণেই মায়াবতীর এই প্রতিবাদ আড়ালেই থেকে যায়। কাগজের একটি লাইনও তাঁর জন্য বরাদ্দ হয় না।
