কুশল দেবনাথ
আবার যুদ্ধের দামামা বেজে উঠল। রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের আগুন এখনও ধিকিধিকি করে জ্বলছে। এর মধ্যেই অশান্ত হয়ে উঠল মধ্যপ্রাচ্য। আমেরিকা–ইজরায়েলের যৌথ হানায় ইরানের একের পর এক শহর বিধ্বস্থ। তেলের খনি থেকে সামরিক ঘাঁটিতেও মুহুর্মুহু আছড়ে পড়ছে ক্ষেপনাস্ত্র। ইরানের অবিসংবাদি নেতা
আয়াতোল্লা আলি খামেনেইকে যেমন হত্যা করা হয়েছে, তেমনই হত্যা করা হয়েছে খামেইনের উত্তরসূরি আলিরেজা আরাফিকেও। সবমিলিয়ে ইরান যেন এক ধ্বংসস্তূপের মুখে দাঁড়িয়ে। আগামী একমাসে এই ধ্বংসলীলা কোথায় গিয়ে পৌঁছোবে, কে জানে!
মরিয়া হয়ে পাল্টা আক্রমণের রাস্তায় হেঁটেছে তারাও। তাদের ক্ষেপনাস্ত্র ও যুদ্ধবিমানও আছড়ে পড়ছে ইজরায়েলে। সেইসঙ্গে সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায়। একদিকে মধ্যপ্রাচ্য জ্বলছে। হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। অন্যদিকে, আমেরিকার হুমকি চলতেই থাকছে। যুদ্ধ থামানোর বা পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণে আনার কোনও চেষ্টাই দেখা যাচ্ছে না। স্বয়ং রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প যেন ধ্বংসলীলায় মেতে উঠেছেন। এখন যুদ্ধ থামার কোনও প্রশ্নই নেই, এই যুদ্ধ আরও বেশ কয়েকমাস চলবে— এমন হুমকি তিনি দিয়েই চলেছেন। ইরানের রাষ্ট্রপ্রধানদের কেন হত্যা করা হল, মাফিয়াদের মতো তার ব্যাখ্যা দিয়ে চলেছেন।
জো বাইডেনকে সরিয়ে দ্বিতীয়বার মসনদে বসার পর থেকেই ট্রাম্প যেন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। আমেরিকার রাষ্ট্রপ্রধান— এই পদের ওজন কত, তিনি বুঝতেই পারছেন না। এই পদকে তিনি বিপরোয়া দাদাগিরির ছাড়পত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন। রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝেও তিনি। ভারত–পাক সীমান্ত সংঘর্ষেও তিনি ফতোয়া জারি করেন। ভারত কেন রাশিয়ার কাছে তেল কিনবে, তা নিয়েও তাঁর মাথাব্যথা। এবার ইরানকে অশান্ত করার খেলায় মেতেছেন। মোদ্দা কথা, ইরানের তেলের ওপর দখলদারি চান।
এই যুদ্ধ শুধু মধ্যপ্রাচ্যে থেমে থাকবে না। বিশ্ব অর্থনীতির ওপর ভয়ঙ্কর প্রভাব পড়ছে। একদিকে শেয়ার বাজারে ধস নামছে। অন্যদিকে তেলের দাম হু হু করে বাড়বে। সারা বিশ্বকেই এর মাশুল গুনতে হবে। ভারতের মতো দেশ নিরাপদ দূরত্বে আছে, এমন ভাবার কোনও কারণ নেই। নানাভাবে এর আঁচ এসে লাগছে ভারতের অর্থনীতির ওপর।
ট্রাম্প যে মার্কিন জনতার স্বার্থ সুরক্ষিত করতে চাইছেন, এমন ভাবার কোনও কারণ নেই। তেলের দখলদারি শেষমেশ পেটোয়া ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দেওয়া। আর নিজেকে সারা বিশ্বের স্বঘোষিত মাতব্বর হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। এগুলোই তাঁর লক্ষ্য। একজন রাষ্ট্রপ্রধানের কী দায়িত্ব, তা তিনি আগেও বোঝেননি, যত দিন যাচ্ছে, ততই যেন পাগলামি বেড়েই চলেছে। অনেক দেশই তাঁর পাগলামিতে বিরক্ত। কিন্তু বেড়ালের গলায় ঘণ্টা কে বাঁধবে?
