সৌহার্দ্য সেন
দেড় বছরের বেশি সময় ধরে অশান্ত বাংলাদেশ। শুরু হয়েছিল ছাত্র ও যুবকদের আন্দোলন দিয়ে। কিন্তু সেই আন্দোলন একসময় এমন লাগামছাড়া চেহারা নিল, নেমে এল চূড়ান্ত অরাজকতা। নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে দেশ ছাড়তে হল। ভাঙা হল একের পর এক সরকারি প্রতিষ্ঠান ও ঐতিহ্যবাহী সৌধ। বঙ্গবন্ধু মুজিবর রহমানের মূর্তি, রবীন্দ্রনাথ–নজরুলের স্মৃতি বিজড়িত নানা স্মারক— কিছুই বাদ গেল না এই ধ্বংসালীলা থেকে।
অবশেষে লম্বা পথ পেরিয়ে আবার গণতন্ত্রের পথে আমাদের প্রতিবেশী দেশ। ভোট হল। নির্বাচিত সরকার তৈরি হল। সেই সরকার শুরু থেকেই দিল মিত্রতার বার্তা। সুশাসন ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার তো ছিলই। কতটা ফিরে আসবে, সেটা সময় বলবে। কিন্তু সদিচ্ছা যে আছে, সেটা অন্তত পরিষ্কার। কথায় আছে, কোনও বাড়িতে আগুন লাগলে, তার পাশের বাড়িটিও নিরাপদ নয়। আগুনের আঁচ পৌঁছে যেতে পারে সেই পাশের বাড়িতেও। ভারত–বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও সেটাই হয়েছে। বাংলাদেশ যখন উত্তপ্ত, সেখানে যখন নানা অরাজকতার দিনলিপি, তখন সীমান্ত পেরিয়ে তার আঁচ এসে পড়েছিল ভারতেও। দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক যেমন তলানিতে এসে ঠেকেছিল, তেমনই আমজনতার মধ্যেও এসেছিল নানা ভুল বোঝাবুঝি। দুই দেশেই সমাজমাধ্যমে অনেকে উগরে দিচ্ছিলেন ঘৃণার স্রোত। সম্প্রীতির সুরও ছিল। কিন্তু পারস্পরিক দোষারোপ আর ঘৃণার বাতাবরণে সেই সম্প্রীতির সওয়াল করা মানুষগুলো ছিলেন নেহাতই সংখ্যালঘু।
দুই দেশের এত নিবিড় সম্পর্ক। ভারত সারা পৃথিবীকে পরোয়া না করে স্বাধীন করেছে বাংলাদেশকে। সেই বাংলাদেশে যদি ক্রমাগত ভারত বিরোধী জেহাদ শোনা যায়, সেটা সত্যিই বড় মর্মান্তিক। ঠিক তেমনই, যে আমরা বাংলাদেশকে চিরকাল সহোদরের মর্যাদা দিয়েছি, সেই ভারতেই বা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এত বিদ্বেষমূলক আচরণ কেন থাকবে? গণতন্ত্রের মহিলা সত্যিই কতটা উজ্জ্বল, তা অনেকটাই বুঝিয়ে দিয়ে গেল বাংলাদেশের ঘটনা। নির্বাচিত সরকারকে সবসময়ই দায়িত্বশীল থাকতে হয়। বলা যায়, পরিস্থিতিই তাকে দায়িত্বশীল করে তোলে। জয় তাকে বিনয়ী করে তোলে। তাই বাংলাদেশের ভাবী প্রধানমন্ত্রী যখন দুই দেশের সম্প্রীতি ও সুসম্পর্ক ফিরিয়ে আনার কথা বলেন, ভরসা করতে ইচ্ছে হয়। দুই দেশের সদর্থক আলোচনাই পারে পারস্পরিক ভুল বোঝাবুঝিকে দূরে সরিয়ে আরও কাছাকাছি এনে দিতে। সাম্প্রতিক অতীতেত এই তিক্ততা, এই অরাজকতা আমরাও ভুলতে চাই। নতুন সম্পর্কের সূচনা হোক। পুরনো তিক্ততা ভুলে আবার সেই হারানো সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য ফিরে আসুক।
