খেলার বইয়ের নাকি পাঠক নেই। এমন একটা আক্ষেপ মাঝে মাঝেই শোনা যেত। কিন্তু গত কয়েক বছরে ছবিটা অনেকটাই বদলে গিয়েছে। এখন বইমেলা এলেই ঝাঁকে ঝাঁকে খেলার বই। কোনওটা হয়তো জীবনীনির্ভর। কোনওটা আবার বিশেষ কোনও ঘটনাকে কেন্দ্র করে। দুই প্রধানকে নিয়েই প্রতি বছরই বেশ কয়েকটা বই প্রকাশিত হয়। আবার খেলার মাঠের নানা মুখরোচক ঘটনা নিয়েও বই লেখা হচ্ছে বিস্তর।
বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হয় দীপ প্রকাশনের কথা। প্রায় আড়াই দশক ধরে নিয়ম করে তাঁরা খেলার বই প্রকাশ করছেন। বলা যায়, বাঙালির ড্রয়িংরুমে খেলার বইকে পৌঁছে দেওয়ার নিরন্তর চেষ্টা করে চলেছেন। গত এক দশকে তার বিস্তার যেন আরও বেশি। এর বড় একটা কারণ সোশ্যাল মিডিয়া। কোন বই বেরোচ্ছে, কে লিখছেন, বইয়ের বিষয়বস্তু কী, এখন দূরদূরান্তের পাঠকও দিব্যি জেনে যাচ্ছেন। বইয়ের বিপণন ব্যবস্থাও অনেক সহজ হয়েছে। ভিনরাজ্যের কোনও শহর থেকেও অনায়াসেই অনলাইনে অর্ডার করছেন। বই পৌঁছে যাচ্ছে নির্ভুল ঠিকানায়।
আসলে, বাঙালি ছোট থেকেই খেলার অনুরাগী। মোহনবাগান আর ইস্টবেঙ্গলের মেরুকরণ তো আছেই। ক্রিকেটকে ঘিরেও এই অনুরাগ তীব্র থেকে তীব্রতর হয়েছে। যাঁদের বেড়ে ওঠা আটের দশকে, তাঁদের কেউ গাভাসকারের অনুরাগী, কেউ কপিলদেবের। নয়ের দশক মানেই শচীন তেন্ডুলকার, সৌরভ গাঙ্গুলি। তাঁদের নিয়েও লেখা হল নানা রকমের বই। বইমেলায় সেসব বইয়ের বিক্রি হত ঠিকই, কিন্তু সারা বছর ধরে এইসব বইকে ঘিরে সেই উন্মাদনাটা হয়তো ছিল না। বিশেষ করে যাঁরা জেলায় থাকেন, যাঁরা কর্মসূত্রে ভিনরাজ্যে বা ভিনদেশে থাকেন, তাঁদের কাছে এইসব বই অধরাই থেকে যেত। আমাদের অনেকেরই ছোটবেলার সঙ্গে জড়িয়ে আছেন ময়দানের নানা চরিত্র। নানা ব্যস্ততায় সেই স্মৃতির অ্যালবামে কিছুটা ধুলো জমে। এইসব বই যেন সেই ধুলো ঝেড়ে আবার ফিরিয়ে দেয় হারানো কৈশোর। যতই হাতের স্মার্টফোন থাকুক, বইয়ের খিদে শুধু বই–ই মেটাতে পারে। একটা সুন্দর বই শেষ করার যে রোমাঞ্চ, তার সঙ্গে কোনও কিছুর তুলনা হয় না।
তেমনই কিছু বই নিয়ে আলোকপাত। অন্য ধরনের বই নয়, আপাতত শুধুই খেলার বই। দেবাশিস দত্ত, গৌতম ভট্টাচার্যর মতো দিকপাল সাংবাদিকদের লেখা বই যেমন আছে, তেমনই দিকপাল ফুটবলারদের আত্মজীবনী সুন্দর অনুলিখনে অন্য মাত্রা এনেছেন সুপ্রিয় মুখোপাধ্যায়। দুই দশক ধরে ময়দানের গন্ধ গায়ে মেখে দুই প্রধানকে নিয়ে বই লিখেছেন অর্ঘ্য বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনই কিছু বইকে নিয়ে লেখার সংকলন। মূলত গত তিন–চার বছরের বই নিয়েই আলোচনা। ‘আজকাল’ এর রবিবাসরীয়তে বুক রিভিউ আকারে বেশ কয়েকটি লেখা প্রকাশিত। সেখানে শব্দের সীমারেখা থাকে। ফলে, সবসময় বিস্তারিত আলোচনা সম্ভব হয়নি। চাইলে এই সংকলনে হয়তো শব্দ বাড়ানো যেত। কিন্তু সেই লেখাগুলি অবিকল একই রাখা হয়েছে। নানা সময়ে বেঙ্গল টাইমসের ই–ম্যাগাজিনেও কিছু রিভিউ জায়গা পেয়েছে। সেখান থেকেও কয়েকটি সংকলিত। চাইলে এই সংকলনে আরও অনেক লেখাই রাখা যেত। কিন্তু এটা আপাতত প্রথম খণ্ড। পরের খণ্ডগুলিতে আরও অনেক লেখা রাখা যেতেই পারে। যেমন, এই বছর বইমেলায় আরও একঝাঁক খেলার বই আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে। সেইসব বই নিয়েও আলাদা সংকলন করার ইচ্ছে রয়েছে।
স্বরূপ গোস্বামী
জানুয়ারি, ২০২৬
পুরো বইটি পিডিএফে পড়া যাবে। নীচে দেওয়া হল ওয়েব লিঙ্ক। এখানে ক্লিক করে বইটি সহজেই ডাউনলোড করা যায়।
https://bengaltimes.in/wp-content/uploads/2026/02/khela-jakhan-dui-molate.pdf

