কুণাল জানেন, কখন সুতো গোটাতে হয়

হরিশ মুখার্জি

তিনি বড় নেতা নন। বিরাট জনপ্রিয় নন। বিরাট বাগ্মীও নন। খুব বিত্তশালী নন। কিন্তু কুণাল ঘোষকে উপেক্ষা করা বড়ই কঠিন। শিরোনামে কীভাবে থাকতে হয়, তিনি জানেন। বেশ ভালই জানেন।

আবার তাঁকে নিয়ে অষ্টপ্রহর মেতে উঠেছে বঙ্গ মিডিয়া। আর সোশ্যাল মিডিয়া তো আছেই। কুণাল ঘোষ কি তবে তৃণমূল ছাড়ছেন?‌ কুণাল ঘোষ কি বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন?‌ তিন–‌চার দিন ধরে এমন কত জল্পনা।

রাজনীতি সম্ভাব্যতার শিল্প। অনেক সমীকরণ এখানে বদলে যায়। কিন্তু তারপরেও বলা যায়, এমন কিছুই হবে না। কদিন মিডিয়া এই নিয়ে মেতে থাকবে। ওয়ান ইজ টু ওয়ান ইন্টারভিউ হবে। টিভির সান্ধ্যকালীন চণ্ডীমণ্ডপের আসর বসবে। তাই নিয়ে ইউটিউব চ্যানেলগুলি নানা বিশ্লেষণ করবে। কিন্তু কোথায় এই অঙ্কের পরিসমাপ্তি টানতে হয়, সেটা কুণাল ঘোষ জানেন। তাই ঠিক সময় তিনি আলোচনা থামিয়ে দেবেন।

মাস খানের আগের কথা। হঠাৎ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিলেন কুণাল ঘোষ। এমন কিছু বললেন যা দলে থেকে এভাবে বলা যায় না। অন্তত অন্য কেউ এমন সাহস দেখাতেন না। তাহলে কুণাল ঘোষ দেখালেন কেন?‌ কারণ, তিনি জানতেন তিনি কী ভূমিকা পালন করছেন। সেটাও নির্দিষ্ট পরিকল্পনারই একটা অঙ্গ ছিল। সেই সময় সন্দেশখালি থেকে নজর ঘোরানো দরকার ছিল। তিনি সেই কাজে ষোল আনা সফল। তিন–‌চারদিন পরেই সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের চা চক্রে গিয়ে সুন্দর যবনিকা টানলেন।

এবারও তাই। যেটা করছেন, পরিকল্পিতভাবেই করছেন। মাঝে মাঝে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ছেন ঠিকই। আপাতভাবে মনে হতে পারে, বেফাঁস কথা বলে ফেলছেন। মনে হতেই পারে, এটা বোধ হয় বিদ্রোহের সুর। আসলে কিছুই না। আগেরবার যেভাবে যবনিকা টেনেছিলেন, এবারও সেভাবেই টানবেন। নিশ্চিন্তে থাকুন, মধুরেণ সমাপয়েতই হবে। তিনি জানেন, কতখানি সুতো ছাড়তে হয়। তিনি জানেন, কীভাবে সুতো গোটাতে হয়। মাঝখান থেকে আমরা তিন চারদিন সব আলোচনা থামিয়ে ওই আলোচনা নিয়ে মেতে উঠি।

মনে হতেই পারে, তিনি দলের মধ্যে অনেক প্রশ্ন উস্কে দিলেন। তাই নিযে আলোচনা করে আমরা নিজেদের খুব পণ্ডিত ভাবি। আসলে, আমাদের নজরকে ঠিক সময়ে তিনি অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে জানেন। এই জন্যই তিনি বড় সাংবাদিক। আগামী চারদিন কী শিরোনাম হবে, বিতর্ক কীভাবে থামবে, তিনি আগাম দেখতে পান। এই দূরদর্শিতা একজন সাংবাদিকের বড় গুণ। যেটা মূলস্রোত মিডিয়ার একেবারেই নেই। তাঁরা বাজার গরম করতে গিয়ে আসলে নিজেদেরই হাস্যকর করে তোলেন।

দু’‌মাস আগে একবার বোকা বনেছেন। এবার নতুন এপিসোডে ফের বোকা প্রতিপন্ন হওয়ার জন্য তৈরি হোন।

Previous post গীতা মুখার্জির পাঠশালায় নারীর মুক্তি
Next post এই চিরঞ্জিৎকে আপনি চিনতেন?‌

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *