শরৎ, হেমন্ত এই ঋতুগুলোও যেন প্রায় হারিয়েই গিয়েছিল। মোটামুটি এগারো মাস গরম কাল। টেনেটুনে এক মাস শীতকাল। এটাই বাংলার সাম্প্রতিককালের ঋতুচক্র হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমনকী রচনার বইয়েও বোধ হয় শরৎকাল, হেমন্তকালের প্রাসঙ্গিকতা হারিয়ে গিয়েছিল। এবার পরিস্থিতি একটু হলেও অন্যরকম। গরম ছিল ঠিকই, তবে বর্ষা এসে তাকে অনেকটাই প্রশমিত করেছে। শরতের ঝলমলে নীল আকাশে দিব্যি সাদা মেঘের ভেলা ছিল। ভুলতে বসা হেমন্ত যেন একটু একটু করে সুর ছড়িয়েছে। আর শীত! এখনও তেমন কাঁপুনি আসেনি ঠিকই, তবে দীপাবলির আগেই কেমন যেন একটা হিমের পরশ। কবির ভাষায় বলতে হয়, শীত এলে বসন্ত আর কতই বা দূর!
এবার পুজো একটু আগেই। ফলে, অক্টোবরের মাঝামাঝি দীপাবলির আয়োজন। পুজোর সেই আনন্দের পরেই যেন বিষাদের সুর। ভয়াবহ বন্যায় বিধ্বস্থ উত্তরবঙ্গ। ভেসে গেল একের পর এক বাড়ি। জাতীয় অরণ্য জলের তলায়। ভেসে গেল কত বন্য জন্তু। একদিকে অবাধে গাছ কাটা। অন্যদিকে নদীর পাড় থেকে লাগাতার বালি তুলে নেওয়া। পর্যটনের নামে, উন্নয়নের নামে প্রকৃতির ওপর এই অত্যাচার প্রকৃতি কতদিন আর সহ্য করবে! সে তার মতো করে রুখে দাঁড়াল। কী কেন্দ্র, কী রাজ্য কেউই দায় এড়াতে পারে না। কিন্তু এঁরা যে দায় নিতে শেখেননি, নিজের ব্যর্থতা অন্যদের দিকে ঠেলে দেওয়াতেই এঁদের যত আনন্দ। এমন ভয়াবহ বিপর্যয়ের পরেও কাদা ছোড়াছুড়ির বিরাম নেই। কে কত দায়িত্বজ্ঞীনহীন হতে পারেন, এ যেন তার প্রতিযোগিতা।
তবু জীবন থেমে থাকে না। সে এগিয়ে চলে নিজের গতিতেই। একটু একটু করে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে উত্তরবঙ্গ। পুজো সংখ্যার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার হাজির দীপাবলি সংখ্যা। ছাপা হরফের পুজো সংখ্যা এবার ছিল বাড়তি আকর্ষণ। উৎসবের আবহ হলেও কিছু অপ্রিয় প্রসঙ্গ টেনে আনতেই হয়েছে। রাজনীতি, খেলা, সাহিত্য, সিনেমা সর্বত্রই নানা ঘটনাপ্রবাহ থাকবে। বিতর্ক থাকবে। সেগুলোকে সীমিত পরিসরে একটু ছুঁয়ে দেখা। পাশাপাশি পুরনো কিছু নস্টালজিয়াকে একটু উস্কে দেওয়া। কিছু পুরনো বিভাগের পাশাপাশি কিছু নতুন বিভাগকেও শামিল করার একটা চেষ্টা। স্বল্প পরিসরে, স্বল্প সময়ে আবার ডানা মেলল বেঙ্গল টাইমস। সেই উড়ানে আপনাদেরও সাদর আমন্ত্রণ।
*************
ই–ম্যাগাজিনটির পিডিএফ আপলোড করা আছে। ডাউনলোড করলেই সহজে পড়তে পারবেন।
ওয়েব লিঙ্কও দেওয়া হল। নীচের লিঙ্কে ক্লিক করলেই পড়তে পারবেন।
https://bengaltimes.in/wp-content/uploads/2025/10/dipabali-issue-2025.pdf

