অজয় কুমার
কলকাতা থেকে লন্ডন যাওয়ার কোনও বিমান নেই! এমন একটা তথ্যের কথা অনেকেই হয়তো জানেন না। আপনাকে লন্ডন যেতে হলে আগে দিল্লি বা মুম্বই যেতে হবে। নইলে আপনাকে যেতে হবে দুবাই হয়ে। এমনকী পড়শি দেশ বাংলাদেশ থেকেও আপনি লন্ডনের বিমান ধরতে পারেন। কিন্তু কলকাতা থেকে ইংল্যান্ড বা আমেরিকায় উড়ে যাবেন, তার উপায় নেই।
মুখ্যমন্ত্রী লন্ডনে গেছেন। সেখানে গিয়ে তিনি আবেদন করেছেন, কলকাতা থেকে যেন লন্ডনের সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালু হয়। তিনি আবেদন করতেই পারেন। কিন্তু তাতে বিমান চালু হয়ে যাবে, এমন ভাবার কোনও কারণ নেই। আসল কারণটা হল অর্থনৈতিক। এই রুটে বিমান চলাচল লাভজনক হলে এভাবে আবেদন জানাতেই হত না। তাঁরা নিজেদের গরজেই বিমান চালাতেন।
কলকাতা থেকে লন্ডনে কোনও কালেই কি বিমান ছিল না? অবশ্যই ছিল। ইংল্যান্ডের বিমানও ছিল, আমেরিকার বিমানও ছিল। কিন্তু দৈনিক চালালে তা লাভজনক হওয়ার কোনও সম্ভাবনা ছিল না। তাই সপ্তাহে তিন দিন চলত। কিন্তু দেখা যায়, তাতেও বিজনেস ক্লাসে পর্যাপ্ত যাত্রী হচ্ছে না। ফলে, বাধ্য হলেই ব্রিটিশ বিমান সংস্থা কলকাতার বিমান চলাচলে পাততাড়ি গুটিয়ে দেয়।
ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ না হয় বিমান চালাচ্ছে না। কিন্তু এয়ার ইন্ডিয়া বা ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের বিমান তো লন্ডন যেতে পারত। তারাই বা চালায় না কেন? কারণ, তাঁরাও বোঝেন, কলকাতা থেকে লন্ডন বা আমেরিকার বিমান চালিয়ে লাভ তো দূরের কথা, মোটা অঙ্কের লোকসান অপেক্ষা করছে। সহজ কথা, আমাদের রাজ্যের শিল্পপতিদের সেই ক্রয়ক্ষমতা নেই। বা ইংল্যান্ড, আমেরিকা থেকে এই শহরে সেই পরিমাণ লোকের আনাগোনা নেই। যাঁরা আছেন, ঘুরপথেই তাঁদের আসতে হবে।
একটা রাজ্য বা সেই রাজ্যের একটা শহর কতটা শিল্পোন্নত, অর্থনৈতিকভাবে কতটা সমৃদ্ধ, তা বোঝা যায় সেই শহর থেকে লন্ডন বা আমেরিকার ডাইরেক্ট বিমান আছে কিনা। না থাকলে বুঝতে হবে, সরকার যতই সাফল্যের ঢাক পেটাক, বাস্তব ছবিটা অন্যরকম।
সরাসরি বিমান নেই, এটা এতদিন আমজনতা সেভাবে জানতেনও না। জানার দরকারও পড়েনি। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর লন্ডন সফর এই বিষয়টাকে আরও সামনে এনে দিল। সফরসঙ্গী সাংবাদিকরা একটু বাড়তি আপ্লুত হবেন, সেটাই স্বাভাবিক। তাঁদের লেখা পড়লে মনে হবে, লন্ডনের বিমান এই চালু হল বলে! যেমন, প্রতিবার শিল্প সম্মেলনের পর মনে হয়, এই বুঝি শিল্পের বন্যা বয়ে যাবে! আগেও বারবার যেমন হতাশ হতে হয়েছে, এবারও সেই হতাশাই ভবিতব্য।
