দিব্যেন্দু দে
ই মেলে মনোনয়ন। বিরোধীরা হঠাৎ করেই উল্লসিত। সিপিএম বেশ কিছু আসনে ই মেলে মনোনয়ন পাঠিয়েছিল। সেগুলি বৈধ হলে, তাদের খুশি হওয়ারই কথা। বিজেপি–ও খুশি। এবার তারাও পাল্টা আবেদন জানাবে, ই মেলে তাদের মনোনয়নও যেন নেওয়া হয়।
কিন্তু এখনই এত উল্লসিত হওয়ার মতো কিছু ঘটেনি। হঠাৎ করে আদালত রায় দিয়ে দিল, আর অমনি নির্বাচন কমিশন ই মেলে মনোনয়ন জমা নিয়ে নিল, এমনটা হওয়ার নয়। সম্ভবত হবেও না। হাইকোর্টের কাজ আইনরক্ষা করা, আইন প্রণয়ন করা নয়।
নির্বাচন কমিশন যুক্তি দেখাতেই পারে, ই মেলে মনোনয়ন নেওয়ার কথা পঞ্চায়েত আইনে নেই। তাহলে নেব কেন?
হাইকোর্টের কাছে আগেই অনলাইনে মনোনয়নের আর্জি জানিয়েছিল বিজেপি। তখন তা খারিজ হয়ে যায়। তাহলে, এখন মনোনয়ন জমানিতে বলা হচ্ছে কেন? হাইকোর্ট যদি একেক সময় একেকরকম রায় দেয়, তার দায় নির্বাচন কমিশন নেবে কেন?
তাই এই নিয়ম সুপ্রিম কোর্টে খুব একটা গুরুত্ব পাওয়া যাবে না। কারণ, এর সঙ্গে গোটা দেশের ভোটিং ব্যবস্থা জড়িয়ে আছে। লোকসভা বা রাজ্যসভায় ই মেলে মনোনয়ন দেওয়া যায় না। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মতো হাই প্রোফাইল নির্বাচনে দেওয়া যায় না। তাহলে খামোখা পঞ্চায়েতেই বা যাবে কেন? যে নিয়ম ওপরের দিকে চালু করা গেল না, প্রযুক্তি কার্যকর করার সেই নিয়ম নিচের দিকে চালু করা সম্ভব? যেটা রাজ্যসভার ক্ষেত্রে চালু করা যায়নি, সেটা পঞ্চায়েতে? ভাবনাটা একটু বাড়াবাড়ি হয়ে গেল না? যুক্তির দিক থেকেও ব্যাপারটা তেমন দাঁড়াচ্ছে না।
অতএব, এই রায় নিয়ে বেশি উল্লসিত না হওয়াই ভাল। একবার রায় পক্ষে গেছে পরের বার উল্টো রায় হতেই পারে। এখন থেকেই তার জন্য তৈরি থাকা ভাল।

