টয় ট্রেনের এত ভাড়া কেন?‌

জগবন্ধু চ্যাটার্জি

দার্জিলিং বলতেই এক লহমায় যে কয়েকটি ছবি ভেসে আসে, তার অন্যতম টয় ট্রেন। মনে পড়ে যায় আরাধনার সেই দৃশ্য। ট্রেনে যাচ্ছেন শর্মিলা ঠাকুর। আর পাশে জিপ চালিয়ে রাজেশ খান্না। সঙ্গে সেই কালজয়ী গান— মেরে স্বপ্নো কি রানী কব আয়েগি তু।

টয় ট্রেনকে ঘিরে বাঙালির কত আবেগ, কত নস্টালজিয়া। কিন্তু সেই টয় ট্রেন যেন ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গেছে। ভূমিকম্প ও ধসের কারণে দীর্ঘদিন টয় ট্রেন পরিষেবা বন্ধ ছিল। তারপর শুরু হল গুরুং–‌বাহিনীর ধ্বংসাত্মক আন্দোলন। একের পর এক টয় ট্রেনের স্টেশন পুড়িয়ে দেওয়া হল। ফের পরিষেবা বন্ধ।

toy3

আবার যদিওবা চালু হল, ভাড়া হয়ে গেল আকাশছোঁয়া। এনজেপি থেকে দার্জিলিংয়ের ভাড়া ১৩০০ টাকা!‌ যেখানে শেয়ার গাড়িতে খরচ ১৩০ টাকা, সেখানে ট্রেনে দশ গুন!‌ মানছি, বিত্তশালী পর্যটকদের কাছে এটা কোনও অঙ্কই নয়। বিদেশ থেকে আসা টুরিস্টদের ক্ষেত্রেও হয়ত বড় অঙ্ক নয়। কিন্তু মধ্যবিত্ত বাঙালি পর্যটকদের কাছে এটা অনেকটাই। পাঁচজনের একটা পরিবার যদি দার্জিলিংয়ে উঠতে চায়, তাদের খরচ পড়বে সাড়ে ছয় হাজার!‌ এটা বাড়াবাড়ি হয়ে গেল না!‌

টয় ট্রেন কি শুধু বিদেশিদের দেখানোর জন্য?‌ বাঙালিরা টয় ট্রেনে চড়বে না?‌ তাহলে এত দামী টিকিট কেন?‌ একদিকে দার্জিলিংয়ের পর্যটনকে আরও জনপ্রিয় করার অঙ্গীকার, অন্যদিকে টয় ট্রেনের আকাশ ছোঁয়া ভাড়া। অদ্ভুত এক বৈপরীত্ব। রেল দপ্তরের কাছে অনুরোধ, টয় ট্রেনের ভাড়া অবিলম্বে কমানো হোক। মধ্যবিত্ত বাঙালিও যেন টয় ট্রেনে চড়ে পাহাড়ে উঠতে পারেন, তার ব্যবস্থা করা হোক।

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *