হাওড়া স্টেশন নিয়ে প্রশাসনের হেলদোল নেই

হাওড়া স্টেশন নিয়ে প্রশাসনের হেলদোল নেই

(‌ওপেন ফোরাম)‌

সুমিত চক্রবর্তী

‌কারও সঙ্গে কারও কোনও সমন্বয় থাকছে না। যার ফলে ভুগতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। যখনই এক দপ্তরের সঙ্গে অন্য দপ্তর জড়িয়ে যাচ্ছে, যখনই রাজ্যের সঙ্গে কেন্দ্র জড়িয়ে যাচ্ছে, তখনই এমন নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
চাইলে এমন শতাধিক উদাহরণ দেওয়া যায়। তা দেওয়া এই লেখার উদ্দেশ্য নয়। বেঙ্গল টাইমসের ওপেন ফোরামে সাম্প্রতিক একটি সমস্যার কথা উল্লেখ করছি। আমার ধারনা, আমার মতো আরও অনেককেই এই সমস্যায় পড়তে হয়েছে, হামেশাই পড়তে হয়।
সমস্যাটি হাওড়া স্টেশনের। স্টেশনে নেমে যানবাহনের ব্যবস্থা থাকবে, সেটুকু আশা করাই যায়। কিন্তু গত রবিবার চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হল। এমনিতেই রাত নটার পর কলকাতা শহরে বিভিন্ন রুটে বাস উধাও হয়ে যায়। তখন ট্যাক্সিই ভরসা। কিন্তু সেখানেও ভরসা করবেন, তার উপায় কোথায়?‌ অধিকাংশ ট্যাক্সি হয় রিফিউজ করবে, নয়তো চারগুণ/‌পাঁচগুণ দর হাঁকবে। হাওড়া স্টেশনে প্রি পেইড কাউন্টার আছে। আগেও সেখান থেকে বেশ কয়েকবার ট্যাক্সি ধরেছি। কিন্তু সেদিন ট্যাক্সি ধরার জন্য দেড় ঘণ্টার বেশি লাইনে দাঁড়াতে হল।

taxi2
লাইন আর এগোতেই চাইছে না। একে মানুষ দূরদূরান্ত থেকে আসছেন। এমনিতেই গন্তব্যে যাওয়ার একটা তাড়া থাকে। তার ওপর স্টেশনে নেমেও দেড়–‌দু ঘণ্টার অপেক্ষা!‌ এখন প্রিপেইড বুথ পরিচালনা করছে হাওড়া সিটি পুলিশ। নানা জায়গায় তাদের হোর্ডিং। বলা হল, রাতে ট্যাক্সি নেই। আমার প্রশ্ন, নেই কেন?‌ বোঝা গেল, সিটি পুলিশের সঙ্গে ট্যাক্সি ইউনিয়নের কোনও সমন্বয়ই নেই। রাতে কোন কোন ট্রেন ঢোকে, মোটামুটি কোনদিন কত প্যাসেঞ্জার হয়, এই জাতীয় পরিসংখ্যানও আছে বলে মনে হল না। রাত দশটা থেকে এগারোটা, কীরকম প্যাসেঞ্জার, এগারোটা থেকে বারোটা কী রকম প্যাসেঞ্জার, একটা মোটামুটি হিসেব থাকবে তো। যদি চারজন যাত্রী পিছু একটি ট্যাক্সিও ধরি, তাহলে কতগুলো ট্যাক্সি দরকার হতে পারে, তার ধারনা থাকবে না?‌ এমন তো নয় যে রাতের দিকে শহরে ট্যাক্সি চলে না। তাহলে পরিবহন দপ্তরের সঙ্গে বা ট্যাক্সি ইউনিয়নের সঙ্গে বসতে আপত্তি কোথায়?‌ রাতের দিতে যেন পর্যাপ্ত ট্যাক্সি থাকে, সেই অনুরোধ তো করা যেতে পারে। হাওড়ায় নতুন কমিশনারেট হয়েছে। কিন্তু এই প্রাথমিক উদ্যোগগুলো কি আদৌ নেওয়া হয়েছে?‌ নেওয়া হলেও তার ফলো আপ হয়েছে?‌
এই সমস্যা খুব জটিল সমস্যা বলে মনে হয় না। একটু সদিচ্ছা ও তৎপরতা থাকলে অনায়াসেই মেটানো যায়। পুরোপুরি মেটানো না যাক, অন্তত কমিয়ে আনা যায়। দেড় ঘণ্টার বদলে অপেক্ষাটা আধ ঘণ্টায় তো নামিয়ে আনা যায়। কিন্তু না আছে সদিচ্ছা, না আছে তৎপরতা, না আছে দূরদর্শিতা। ফলে, যাত্রীদের ভোগান্তির শিকার হতে হয়। বেঙ্গল টাইমসের মাধ্যমে সমস্যাটি তুলে ধরলাম। আশা করি, বিভিন্ন দপ্তর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
(‌এটি ওপেন ফোরামের লেখা। আপনাকেও নানা সময়ে নানা সমস্যায় পড়তে হয়। তাই তুলে ধরুন বেঙ্গল টাইমসের ওপেন ফোরামে। বেঙ্গল টাইমসের সেই লেখা আমরা পাঠিয়ে দেব সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে। লেখা পাঠানোর ঠিকানা:‌ bengaltimes.in@gmail.com) ‌

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.